আওয়াজ দ্য ভয়েস
স্মার্টফোন খুললেই চোখে পড়ে রিল, শর্টস, মাত্র ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ডেই একেকটি ভিডিও। এই স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্ট বা শর্ট-ফর্ম কনটেন্ট এখন পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের নিত্যসঙ্গী। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই তীব্র গতির বিনোদন আমাদের মনোযোগের ক্ষমতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।
নিউরোসায়েন্টিস্টদের মতে, টানা দ্রুতগতিতে নতুন নতুন দৃশ্য ও উত্তেজনার বন্যা আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্ক ক্রমাগত “নতুন উত্তেজনা” খুঁজে বেড়াতে শুরু করে, আর দীর্ঘমেয়াদি মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রিল বা শর্ট ভিডিও দেখেন, তারা দীর্ঘ লেখা পড়া, লেকচার শুনা বা একটি কাজ ধরে রাখার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি সমস্যা অনুভব করছেন।
স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওতে দ্রুত এডিট, আকর্ষণীয় সংগীত, এবং কয়েক সেকেন্ড পর পর নতুন দৃশ্য, সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক ধরনের “ডোপামিন রিওয়ার্ড লুপ”। গবেষকরা বলছেন, এই অভ্যাস মস্তিষ্ককে খুব দ্রুত উত্তেজনা বদলানোর একটি চক্রে আটকে ফেলে, যাকে অনেকেই এখন “কনটেন্ট-হপিং” বলে উল্লেখ করছেন।
শিশু ও কিশোরদের ওপর এই প্রভাব আরও বেশি। ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ওপর এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি শর্ট ভিডিও দেখলে তাদের মনোযোগ ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা ৪০% পর্যন্ত বেড়ে যায়। অনেকেই খুব দ্রুত “বোর” হয়ে যায় এবং পরবর্তী কনটেন্টের জন্য অধীর হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে বলছেন “attention fragmentation syndrome”, যেখানে মনোযোগ ছোট ছোট অংশে ভেঙে যায়।
তবে সবই নেতিবাচক নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্ট দ্রুত তথ্য শেখাতে সাহায্য করতে পারে, সৃজনশীলতা বাড়াতে পারে এবং ছোট বিরতির মতো কাজও করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সময় নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতন ব্যবহারের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দিনে নির্দিষ্ট সময় স্ক্রল করা, ২০-৩০ মিনিট পরপর স্ক্রিন ব্রেক নেওয়া, ঘুমানোর আগে অন্তত এক ঘণ্টা শর্ট ভিডিও এড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি মনোযোগ বাড়াতে বই-পড়া বা অডিওবুক শোনার অভ্যাস গড়ে তোলা।
স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্ট আমাদের বিনোদনের ধরন পাল্টে দিয়েছে, কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক তার গতি ঠিকমতো সামলাতে পারছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গবেষণা বলছে, সামলাতে পারছে, তবে সীমার মধ্যেই। নতুন প্রজন্মের মনোযোগ রক্ষা করতে ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাসই হতে পারে ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ।