কলকাতাঃ
পশ্চিমবঙ্গকে যক্ষ্মামুক্ত (টিবি-মুক্ত) রাজ্যে পরিণত করতে জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নবান্নে কেন্দ্রের ‘টিবি মুক্ত ভারত অভিযান’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এই বার্তা দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে রাজ্যে যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচির বর্তমান অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন,"যক্ষ্মা নির্মূল করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ও সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক এবং সরকারি আধিকারিকদের একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে প্রতিটি রোগীকে শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।"
স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, বৈঠকে জেলার ভিত্তিতে টিবি নির্মূল কর্মসূচির অগ্রগতি, চিকিৎসার ফলাফল এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পৌঁছনোর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে যেসব জেলায় যক্ষ্মার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে নজরদারি জোরদার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগীদের চিকিৎসা সম্পূর্ণ করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়াও, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সহজে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। স্বাস্থ্য দফতরের মতে, যক্ষ্মা প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের 'টিবি মুক্ত ভারত অভিযান'-এর লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশ থেকে যক্ষ্মা নির্মূল করা। সেই জাতীয় লক্ষ্যে শামিল হয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও রোগ শনাক্তকরণ বাড়ানো, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টিবি-মুক্ত রাজ্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।