সানা খান ও মুফতি আনাসের অনুষ্ঠান 'রৌনক-এ-রমজান'-এ অতিথি হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু
নয়া দিল্লি
রমজানের আধ্যাত্মিক আবহ যেন এক ভিন্ন মাত্রা পেল যখন জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মুফতি সৈয়দ আনাস ও সানা খান তাঁদের বহুল আলোচিত ইউটিউব শো–তে আমন্ত্রণ জানালেন কেন্দ্রীয় সংসদ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে। রমজানের গুরুত্ব, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে রিজিজু জানান, তিনি অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছেন এবং দম্পতির অতিথিপরায়ণতায় মুগ্ধ।
শো–টির দ্বিতীয় সিজন, 'রৌনক–এ–রমজান সিজন ২', এখনও প্রকাশিত হয়নি। এর সঞ্চালক সানা খান, যিনি একসময় ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন তারকা ছিলেন, ক্যারিয়ারের শীর্ষবিন্দুতে থাকা অবস্থায় শোবিজ ছেড়ে ধর্মীয় জীবনে মনোনিবেশ করেন। প্রতি পর্বে তিনি তাঁর স্বামী, আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মুফতি আনাস সৈয়দকে রমজানের বিধান, আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও ইসলামী অনুশীলন নিয়ে প্রশ্ন করেন।
এই অনুষ্ঠানে একজন মুসলিম দম্পতি এবং একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর একসঙ্গে উপস্থিতি ভারতীয় সংস্কৃতির বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ় করে। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে রিজিজু হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে সৌদি আরব সফরও করেছেন। তিনি অনুষ্ঠানের কিছু ছবি ‘এক্স’–এ শেয়ার করে সানা ও আনাস দম্পতিকে ধন্যবাদ জানান।
২০২০ সালে সানা খান ধর্মীয় অনুপ্রেরণা থেকে হঠাৎ শোবিজ ত্যাগ করেন। এর কিছুদিন পর তিনি গুজরাটের ব্যবসায়ী ও ইসলামী আলেম মুফতি আনাস সৈয়দের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাঁদের দুই ছেলে, সৈয়দ হাসান জামিল ও সৈয়দ তারিক জামিল, কে নিয়ে সুখী জীবন কাটাচ্ছেন।
শোবিজ ছেড়ে দিলেও সানা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর। ইসলামী পণ্যের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। তিনি এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় এবং ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও ইতিবাচক বার্তা নিয়মিত ভাগ করে নেন।
গত বছর দম্পতি তাঁদের ইউটিউব চ্যানেলে রৌনক–এ–রমজান শো শুরু করেন। সানা জানান, এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল তাঁর বহুদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
শৈশব থেকেই রমজান তাঁর হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সেহরির নীরবতা, ইফতারের আলো এবং মসজিদের শান্ত মুহূর্ত তাঁর মনে গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগায়। তিনি এমন একটি শো তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যা দর্শকদের রমজানের প্রকৃত অনুভূতি উপলব্ধি করাবে। বিভিন্ন অতিথির গল্প, ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শোটি আধ্যাত্মিকতার গভীরে পৌঁছায়।
মুফতি আনাস সৈয়দ মূলত গুজরাটের সুরাট শহরের বাসিন্দা। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং ইসলামী আলেম হিসেবে পরিচিত। তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। সানার সঙ্গে মিলিয়ে তাঁদের সম্মিলিত সম্পদ দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকায়।