ফারহান আখতারের হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবার উজ্জ্বল ভারত; সেরার সম্মান পেল মণিপুরি ছবি ' বুং'

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
ফারহান আখতারের হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবার উজ্জ্বল ভারত; সেরার সম্মান পেল মণিপুরি ছবি ' বুং'
ফারহান আখতারের হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবার উজ্জ্বল ভারত; সেরার সম্মান পেল মণিপুরি ছবি ' বুং'
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও উজ্জ্বল হল ভারতের নাম। ৭৯তম British Academy Film Awards-এ সেরার সম্মান পেল মণিপুরি ভাষার ছবি ‘বুং’। আর এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন বলিউডের বহুমুখী প্রতিভা ফারহান আখতার। আঞ্চলিক প্রদেশের এক সরল অথচ গভীর মানবিক গল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক বড় মাইলফলক।
 
‘বুং’ পরিচালনা করেছেন লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। প্রযোজনায় ফারহান আখতার। মূলত মূলধারার হিন্দি ছবির জগতে প্রতিষ্ঠিত হয়েও তিনি যে ভারতের প্রান্তিক ভাষা ও সংস্কৃতির গল্পকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তুলে ধরতে আগ্রহী—এই ছবিই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। বাফটা-য় ‘বেস্ট চিলড্রেন’স অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম’ বিভাগে পুরস্কার জয় শুধু একটি ছবির স্বীকৃতি নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের চলচ্চিত্র আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
 
‘বুং’ শব্দের অর্থ মণিপুরি ভাষায় ‘ছোট ছেলে’। ছবির কেন্দ্রে রয়েছে এক কিশোর, যে উত্তপ্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হারিয়ে যাওয়া বাবাকে খুঁজে ফেরে। তার বিশ্বাস—বাবা ফিরে এলে মায়ের মুখে আবার হাসি ফুটবে। এই সরল আবেগের ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে পরিবার, সংকট, ভালোবাসা ও আশার গভীর বার্তা। শিশুচরিত্রে গুগুন কিপগেনের অভিনয় আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে।
 
ফারহান আখতার দীর্ঘদিন ধরেই পরীক্ষাধর্মী ও অর্থবহ গল্প বলায় বিশ্বাসী। কিন্তু ‘বুং’-এর মাধ্যমে তিনি যে সাহসী পদক্ষেপ নিলেন, তা কেবল একজন প্রযোজকের সাফল্য নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক অবস্থান। তিনি প্রমাণ করলেন, ভারতের আঞ্চলিক ভাষার গল্পও সমানভাবে বিশ্বমানের হতে পারে। বড় বাজেট বা চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল নয়, মানবিক আবেগই পারে দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে।
 
এই স্বীকৃতি উত্তর-পূর্ব ভারতের শিল্পী ও নির্মাতাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার বাইরে থাকা এই অঞ্চলের গল্প আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাচ্ছে। ‘বুং’-এর জয় যেন এক নতুন দিগন্তের সূচনা—যেখানে ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হবে।
 
আসলে ফারহান আখতারের এই সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভারত মানে কেবল একটি ভাষা বা একটি সংস্কৃতি নয়—এটি অসংখ্য ভাষা, অনুভূতি ও জীবনের গল্পের সমষ্টি। সেই বহুরূপী ভারতকেই তিনি তুলে ধরেছেন ‘বুং’-এর মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই জয় তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সমগ্র ভারতীয় আঞ্চলিক সিনেমার গর্বের মুহূর্ত।