‘কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই, তা হলে কেন হামলা?’ গুলিকাণ্ডে এখনও আতঙ্কিত টাইগার শ্রফ, গ্রেফতার ১১
মুম্বাই
নিজের বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানোর ঘটনায় এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ। “আমি গভীর ধাক্কা খেয়েছি। কারও সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা নেই। তা হলে আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হল কেন?” মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকদের কাছে এমনই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা। ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত টাইগার এখনও পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বয়ান নথিভুক্ত করাননি।
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ফুটবল খেলে ফেরার পথে নিজের বিএমডব্লিউ গাড়ির সামনের যাত্রীর আসনে বসেছিলেন ৩৬ বছর বয়সি অভিনেতা। সেই সময় বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি চালায়। হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান টাইগার। তবে তাঁর গাড়ির চালক ফিরদৌস বালুচ এবং উমেশ চৌহান নামে এক ভ্লগার আহত হন।
ঘটনার পর প্রকাশ্যে আসা একাধিক ভিডিয়োয় হামলাকারীদের গুলি চালাতে দেখা যায়। গুলির ঘটনার পর আহত চালককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য টাইগার নিজেই গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।
তিন অভিযুক্তের গ্রেফতারি, ধৃতের সংখ্যা ১১
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার ফুল সিং (১৮) ও রেহান রহিসুদ্দিন আনসারি (১৮), এবং বিহারের হৃতিক কুমার ওরফে রোশন (২২)। হামলার পর তারা বাইকে চেপে পালিয়ে যায়। পরে মুম্বাইয়ের অন্ধেরিতে হামলায় ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি মোটরবাইক পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা গুজরাটের সুরাটে পৌঁছে সেখান থেকে ট্রেনে রাজস্থানের কোটা যাওয়ার পরিকল্পনা করে। পরে সেখান থেকে দিল্লি হয়ে নেপালে পালানোর ছক ছিল তাদের। কিন্তু মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তাদের গতিবিধি শনাক্ত করে। পরবর্তী সময়ে রাজস্থানের কোটা থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, হামলায় ব্যবহৃত একটি তুরস্কে তৈরি জিগানা পিস্তল মাঝপথে আটকে যায়। ফলে ওই অস্ত্র থেকে গুলি চালানো সম্ভব হয়নি বলে তদন্তকারীদের দাবি। অন্যদিকে, ফুল সিং দেশি পিস্তল বা ‘কাট্টা’ ব্যবহার করে গুলি চালিয়েছিল বলে সন্দেহ।
পালানোর ছক ভেস্তে দেয় তদন্ত
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথমে সুরাট থেকে বাসে দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা। সেখান থেকে নেপালে পালানোর কথা ছিল। কিন্তু বাস ছেড়ে দেওয়ার পর তারা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয়। এরপর পরিকল্পনা বদলে অন্য পথে পালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিত হামলার দায়িত্ব স্বীকার করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের পালানোর পরিকল্পনায় নির্দেশ দিয়েছিল। অনিলের নির্দেশে অঙ্কিত খাটকের মাধ্যমে ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল (ভিওআইপি) কল করে নতুন পরিকল্পনা জানানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর অভিযুক্তরা সুরাট থেকে পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেসে ওঠে। তবে সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যে তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল পুলিশ।
শুক্রবার সুরাটের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১০টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অস্ত্রগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ইন্দোর থেকে আরও এক অভিযুক্ত গ্রেফতার
শনিবার ইন্দোর থেকে প্রাঞ্জল ঠাকরান (২২) নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ফলে এই ঘটনায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা প্রাঞ্জল পাঁচ দিন আগে তাঁর পক্ষাঘাতগ্রস্ত ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য ইন্দোরে এসেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, হামলাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের লজিস্টিক সহায়তা, আর্থিক সাহায্য অথবা অন্যান্য কার্যকরী সহযোগিতা করেছিলেন প্রাঞ্জল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে, টাইগারের গাড়ির চালক এবং ভ্লগারের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছে পুলিশ। অভিনেতার বয়ানও নথিভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। কেন তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হল, এর পিছনে কারা রয়েছে এবং হামলার পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।