জঙ্গল সাফারির পর ‘পেল্লাই’ চমচমের স্বাদ! ডুয়ার্সে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ লাটাগুড়ির এক কেজির মিষ্টি

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 15 h ago
জঙ্গল সাফারির পর ‘পেল্লাই’ চমচমের স্বাদ! ডুয়ার্সে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ লাটাগুড়ির এক কেজির মিষ্টি
জঙ্গল সাফারির পর ‘পেল্লাই’ চমচমের স্বাদ! ডুয়ার্সে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ লাটাগুড়ির এক কেজির মিষ্টি
 
জলপাইগুড়ি: 
 
গরুমারা জাতীয় উদ্যানে জঙ্গল সাফারির রোমাঞ্চ, চারপাশে ডুয়ার্সের সবুজ অরণ্য। আর সেই অভিজ্ঞতার রেশ কাটতে না কাটতেই পর্যটকদের পরবর্তী গন্তব্য লাটাগুড়ির মিষ্টির দোকান। তবে এখানে আকর্ষণ শুধু জঙ্গলের সৌন্দর্য নয়, বরং বিশাল আকারের ‘পেল্লাই’ চমচম! ৩০০ গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি ওজনের এই মিষ্টি এখন ডুয়ার্সে ঘুরতে আসা ভোজনরসিকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। 

সাধারণ চমচমের তুলনায় আকারে অনেকটাই বড় এই মিষ্টিকে পর্যটকদের একাংশ নাম দিয়েছেন ‘ফ্যামিলি প্যাক’। ওজন ও দাম—দুই দিক থেকেই রয়েছে বৈচিত্র্য। ৩০০ গ্রাম ওজনের একটি চমচমের দাম ১০০ টাকা। ৬০০ গ্রামের দাম ২০০ টাকা এবং ৮০০ গ্রামের চমচম কিনতে খরচ পড়ে ৩০০ টাকা। বড় আকারের এই মিষ্টি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্যও পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

লাটাগুড়ির এই বিশেষ চমচম তৈরির পিছনে রয়েছে একটি মজার গল্প। মিষ্টির দোকানের কর্ণধার বিশ্বজিৎ ঘোষের কথায়, ২০০৩ সালে ভিনরাজ্যের এক পর্যটক লাটাগুড়িতে এসে বেলাকোবার চমচমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি ছিল, বেলাকোবার চেয়ে বড় ও সুস্বাদু চমচম তৈরি করা লাটাগুড়ির পক্ষে সম্ভব নয়।

সেই চ্যালেঞ্জকেই কার্যত পণ হিসেবে গ্রহণ করেন বিশ্বজিৎবাবু। সাধারণ ছানার সঙ্গে উৎকৃষ্ট মানের কাজু, কিশমিশ ও খাঁটি ক্ষীর মিশিয়ে তৈরি করেন স্বাদে ও আকারে আলাদা এই চমচম। সেই থেকেই শুরু। গত ২৩ বছর ধরে নিয়মিত তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ মিষ্টি। 
 

কলকাতা থেকে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা

শীতের মরশুমে এই চমচম অন্তত সাত দিন পর্যন্ত ভালো থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। ফলে কলকাতা, দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকেরা বাড়ি ফেরার সময়ও সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন এই মিষ্টি। পর্যটকদের হাত ধরে লাটাগুড়ির এই বিশেষ চমচমের পরিচিতি বাংলাদেশের বাজারেও পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের মিষ্টির জগতে জলপাইগুড়ির বেলাকোবার চমচম দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। সেই ঐতিহ্যের পাশাপাশি লাটাগুড়ির এই বিশালাকার চমচমও নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে।
পর্যটন মরশুমে বাড়ছে চাহিদা।

বর্তমানে ডুয়ার্সের বিভিন্ন রিসর্ট ও হোটেলে পর্যটকদের আগাম বুকিং বাড়ছে। পর্যটকদের আপ্যায়নের জন্য স্থানীয় হোটেল ও রিসর্ট থেকেও এই চমচমের বরাত দেওয়া হয়। পর্যটকদের আনাগোনা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এই মিষ্টির চাহিদা—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। 

সব মিলিয়ে, ডুয়ার্সে বেড়াতে গিয়ে বন্যপ্রাণী দেখা ও অরণ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি লাটাগুড়ির এই ‘পেল্লাই’ চমচম এখন পর্যটকদের সফরে যোগ করছে নতুন স্বাদের অভিজ্ঞতা। জঙ্গলের রোমাঞ্চের পর এক টুকরো মিষ্টিমুখ—লাটাগুড়ির পর্যটন-আকর্ষণে এ বার সেই মিষ্টি স্বাদও বেশ বড় জায়গা করে নিচ্ছে।


শেহতীয়া খবৰ