ঠাকুর দেখতে এসে চমক! দুর্গাপুজোর মণ্ডপেই বসে গেল বিয়ের আসর, হল মালাবদল-সিঁদুরদান, অশোকনগরে নজিরবিহীন বিয়ে ঘিরে চর্চা
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তখন দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মত। উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা গোটা পাড়ার মানুষ। ঠিক সেই উৎসবের আবহেই আচমকা বদলে গেল মণ্ডপের ছবিটা। প্রতিমা দর্শনের ভিড়ের মধ্যেই শুরু হল মালাবদল, চার হাত এক হল। সিঁদুরদানের প্রস্তুতি নিয়েই দুর্গাপুজোর মণ্ডপই হয়ে উঠল বিয়ের আসর। আর এই অভিনব ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের এক পুজোমন্ডপ।
অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজী সংঘের বারোয়ারি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে চর্চা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগরের বাসিন্দা ২৬ বছরের তনু অধিকারীর সঙ্গে ব্যারাকপুরের অন্তর্গত খড়দার বাসিন্দা সৌমি দফাদারের পরিচয় হয় ইনস্টাগ্রামে। ভার্চুয়াল জগতের সেই আলাপ ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে গড়িয়েছে তা দুজনেই বেশ বুঝতে পারেন। প্রায় এক বছর ধরে চলছিল তাঁদের সেই মিষ্টি সম্পর্ক। জানা গিয়েছে, তরুণীর পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি ছিল না।
সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে অশোকনগরে চলে আসেন সৌমি। এরপর পরিবারের তরফে বারবার ফোন আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই ঘটনা জানার পর বাড়ি ফিরে গেলে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সেই কারণেই বাড়ি ফিরতে রাজি হননি তরুণী। অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ক্লাবের সদস্যরা। দুজনের সম্পর্কের কথা জানার পর আলোচনা করে বিয়ের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় তড়িঘড়ি আয়োজন। জোগাড় করা হয় মালা, টোপর, শাঁখা-সহ বিয়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। খবর দেওয়া হয় পুজোর দায়িত্বে থাকা পুরোহিতকে। রাতেই দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বসে বিয়ের আসর। পুরোহিতের উপস্থিতিতে মালাবদল ও সিঁদুরদানের মতো রীতি মেনে সম্পন্ন হয় বিয়ে।
তনু অধিকারীর বক্তব্য, বিয়ের কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। পরিস্থিতির চাপে আচমকাই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নেতাজী সংঘের সভাপতি অজয় কুমার দে জানান, ঘটনাটি তাঁদের কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে দুজনের সম্পর্কের কথা জানার পর তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। নবদম্পতি যাতে ভালোভাবে সংসার করতে পারেন, সেটাই তাঁদের কামনা।
এই ঘটনা দেখে প্রতিমা দর্শনে আসা বহু মানুষ এই অপ্রত্যাশিত বিয়ে দেখতে মণ্ডপে দাঁড়িয়ে পড়েন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, নেতাজী সংঘের দুর্গাপুজো এ বছর ২৫ বছরে পা দিয়েছে। আর সেই বর্ষপূর্তির বছরেই এমন ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে পুজোমণ্ডপটি। পরিবারের তরফে দশমীতে ঘরোয়াভাবে বৌভাতের আয়োজনের কথাও জানা গিয়েছে। দুর্গাপুজোর মণ্ডপ থেকেই শুরু হল এক নতুন জীবনের পথচলা। উৎসবের ভিড়ে এই বিয়ে অশোকনগরে তৈরি করল ব্যতিক্রমী এক মুহূর্ত।