১৮তেই অভিনয় ও উদ্যোগ, মালদার রেসাদ আজিমের দুই জগতের স্বপ্ন

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
রেসাদ আজিম
রেসাদ আজিম
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

মালদার কালিয়াচকের গলি থেকে স্বপ্নটা অনেক দূরের। কখনও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয়, কখনও আবার কম্পিউটারের পর্দায় নতুন কোনও ডিজিটাল উদ্যোগের নকশা, মাত্র ১৮ বছর বয়সেই দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা জগতকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন রেসাদ আজিম। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা তাঁর। অনলাইন পেশাগত পরিচয়ে তিনি অভিনেতা, মডেল, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী; নিজের ওয়েবসাইটে আবার নিজেকে অভিনেতা ও উদ্যোগপতি হিসেবে তুলে ধরেছেন। 

১৯ এপ্রিল ২০০৮ সালে মালদায় জন্ম রেসাদের। ২০২৬-এ বয়স মাত্র ১৮। অথচ তাঁর কাজের পরিধি দেখে বয়সটা যেন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। বাংলা ছবির জগতে ‘খাদান’-এর সঙ্গে তাঁর অভিনয়-সম্পর্কের তথ্য রয়েছে।
 
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ট্রোনেক্সা-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর নিজস্ব ওয়েবসাইটে ট্রোনেক্সাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত একটি বহুমুখী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মালদার এই তরুণের গল্প তাই শুধু অভিনয়ে পা রাখার গল্প নয়। বরং একসঙ্গে দু’টি স্বপ্নকে অনুসরণ করার গল্প।
 
রেসাদ আজিম
 
রেসাদের অনলাইন পেশাগত পরিচয় ঘাঁটতে গিয়ে দেখা যায়, খুব অল্প বয়স থেকেই অভিনয়, ডিজিটাল মাধ্যম এবং ব্যবসা, এই তিনটি ক্ষেত্রেই তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পেশাগত প্রোফাইলে তাঁর অভিনয় ও উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকমাধ্যমে সক্রিয়তার কথাও উল্লেখ রয়েছে। 
 
অভিনয় কেন?
 
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে রেসাদের কাজের দিকে তাকালেই একটা বিষয় পরিষ্কার, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষাটা তাঁর কাছে নিছক তারকা হওয়ার স্বপ্ন নয়। অভিনয় তাঁর কাছে নিজেকে প্রকাশ করার একটি মাধ্যম।
 
‘খাদান’-এর মতো বাংলা ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা সেই পথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আইএমডিবির তালিকায় তাঁর অভিনীত কাজের মধ্যে ২০২৬ সালের ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’ এবং ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মতো কাজের উল্লেখও রয়েছে। ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’-তে তাঁর চরিত্রের নাম রেসাদ বলে আলাদা ক্রেডিটও রয়েছে।
 
অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর আরও কিছু প্রকল্পের কথাও প্রকাশ্য অনলাইন প্রোফাইলে উঠে এসেছে। ‘দ্য ড্রিম: লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ নামে একটি স্বাধীন চলচ্চিত্র-ভাবনার সঙ্গে তাঁর যুক্ত থাকার কথা তাঁর পেশাগত সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তাঁকে সৃজনশীল পরিকল্পনা ও প্রধান চরিত্রের দিকনির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে রেসাদের গল্পের দ্বিতীয় অধ্যায় আরও চমকপ্রদ।
 
অভিনেতা থেকে উদ্যোক্তা, কীভাবে?
 
নিজের প্রকাশ্য বক্তব্য ও পেশাগত পরিচয় অনুযায়ী, মাত্র ১৫ বছর বয়সে ২০২৩ সালে ট্রোনেক্সার যাত্রা শুরু করেন রেসাদ। পরবর্তী সময়ে সেটি ট্রোনেক্সা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড হিসেবে গড়ে ওঠে। তাঁর নিজের প্রকাশিত বিবরণে ডিজিটাল মাধ্যম, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আর্থিক প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন অনলাইন প্রকল্পের কথা উঠে এসেছে।
 
এখানেই হয়তো রেসাদের প্রজন্মের সঙ্গে আগের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় পার্থক্য। যেখানে একটি পেশা বেছে নিয়ে দীর্ঘদিন সেই পথেই চলার ধারণা ছিল, সেখানে রেসাদ একই সঙ্গে অভিনয় এবং প্রযুক্তি, দু’দিকেই নিজের জায়গা তৈরি করতে চাইছেন।
 
রেসাদ আজিম
 
প্রশ্ন উঠতেই পারে, এত অল্প বয়সে এত কিছু সামলানো কি কঠিন নয়?
 
রেসাদের অনলাইন পরিচয় থেকে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা হল, তিনি বয়সকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখতে চান না। বরং শেখার গতি এবং নতুন কিছু করার সাহসকেই এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি হিসেবে দেখেন। তাঁর ওয়েবসাইটেও দ্রুত শেখা, নতুন কিছু তৈরি করা এবং প্রযুক্তিকে মানুষের কাজে লাগানোর আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা হয়েছে। 
 
তাঁর উদ্যোগের তালিকায় ট্রেডপ্রোএক্স এবং ট্রোনা এআই-এর মতো প্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে। পেশাগত সামাজিকমাধ্যমে ট্রেডপ্রোএক্সকে ট্রোনেক্সার অধীনে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রোনা এআইকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। 
 
তবে প্রযুক্তি ও আর্থিক অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের ঝুঁকি, নিয়মকানুন ও আর্থিক শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি, রেসাদের নিজের প্রকাশিত পেশাগত তথ্যেও এ ধরনের সতর্কতার কথা উল্লেখ রয়েছে। 
 
তাহলে শেষ পর্যন্ত রেসাদ কী হতে চান, অভিনেতা, না উদ্যোক্তা? সম্ভবত উত্তরটা, দুটিই। কারণ তাঁর কাছে অভিনয় আর প্রযুক্তি আলাদা দুটি পৃথিবী নয়। বরং দু’টি ক্ষেত্রেই রয়েছে একটি সাধারণ জায়গা, সৃষ্টি করার ইচ্ছা। একটি ক্যামেরার সামনে, অন্যটি প্রযুক্তির পর্দায়।
 
মালদার মতো জেলা শহর থেকে উঠে এসে জাতীয় স্তরের বিনোদন জগৎ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার দিকে তাকানো তাই তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, নিজের প্রজন্মের কাছে একটি বার্তাও। “বড় স্বপ্ন দেখার জন্য বড় শহরে জন্মানো জরুরি নয়”, রেসাদের যাত্রাপথ যেন সেই কথাটাই মনে করিয়ে দেয়।
 
মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁর পথ এখনও অনেকটাই শুরু পর্যায়ে। ফলে সামনে সাফল্যের পাশাপাশি ভুল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নতুন শেখার সময়ও আসবে। কিন্তু সেই পথ চলার আগ্রহটাই হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় সম্পদ।
 
মালদার রেসাদ আজিম তাই এখনই কোনও চূড়ান্ত পরিচয়ের খাঁচায় নিজেকে আটকে রাখতে চান না। ক্যামেরার আলো থেকে প্রযুক্তির পর্দা, দুই জায়গাতেই নিজের স্বাক্ষর রেখে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। আর সেই স্বপ্নের বয়স? মাত্র আঠারো।