শিক্ষার মানোন্নয়নে বেসরকারি সংস্থার হাতে কিছু স্কুলের দায়িত্ব দেওয়ার ভাবনা ত্রিপুরা সরকারের

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 d ago
শিক্ষার মানোন্নয়নে বেসরকারি সংস্থার হাতে কিছু স্কুলের দায়িত্ব দেওয়ার ভাবনা ত্রিপুরা সরকারের
শিক্ষার মানোন্নয়নে বেসরকারি সংস্থার হাতে কিছু স্কুলের দায়িত্ব দেওয়ার ভাবনা ত্রিপুরা সরকারের
 
আগরতলা:

শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সরকারি স্কুলগুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা করছে ত্রিপুরা সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন, রাজ্যের কিছু সরকারি স্কুল একীভূত করে সেগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব রামকৃষ্ণ মিশনের মতো স্বনামধন্য সংস্থা বা সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সোমবার আগরতলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বহু সরকারি স্কুলে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে সরকারি স্কুলে ছাত্রভর্তি কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন,"আমরা চাই সরকারি স্কুলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হোক। প্রয়োজন হলে কিছু স্কুল একীভূত করে রামকৃষ্ণ মিশনের মতো অভিজ্ঞ সংস্থার হাতে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা পেতে পারে।"

সম্প্রতি নীতি আয়োগের এক প্রতিবেদনে ত্রিপুরার সরকারি স্কুলগুলোতে ৮ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। এই সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে রাজ্য সরকার।

বর্তমানে ত্রিপুরার অধিকাংশ সরকারি স্কুল বাংলা মাধ্যম হলেও বেশিরভাগ বেসরকারি স্কুল ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান করে। শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২১ সালে রাজ্য সরকার ১২৫টি বিদ্যালয়কে সিবিএসই পাঠ্যক্রমভিত্তিক 'বিদ্যাজ্যোতি স্কুল'-এ রূপান্তর করেছিল।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে স্কুলছুটের হার ধীরে ধীরে কমছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। বাল্যবিবাহকে বড় সামাজিক সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে এবং স্বনির্ভর করে তুলতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে নবম শ্রেণির ছাত্রীদের জন্য চালু থাকা বিনামূল্যে সাইকেল বিতরণ প্রকল্পে পারিবারিক আয়সীমার শর্ত তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আরও বেশি ছাত্রী এই সুবিধার আওতায় আসছে।চলতি অর্থবর্ষে ত্রিপুরাজুড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৮০০ জন নবম শ্রেণির ছাত্রীকে বিনামূল্যে সাইকেল দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য স্বনামধন্য সংস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সরকারি স্কুলের পরিচালনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি হতে পারে। কারণ, একদিকে যেখানে মানসম্মত শিক্ষার প্রত্যাশা রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার চরিত্র ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

ত্রিপুরা সরকারের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, নাকি আরও আলোচনার জন্ম দেবে—সেদিকেই এখন নজর শিক্ষা মহলের।



শেহতীয়া খবৰ