কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ প্রকল্প’! ক্যাম্পাস থেকেই মোটা টাকার অফারে পড়ুয়াদের নিয়ে নেবে বড় বড় কোম্পানি

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 d ago
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ প্রকল্প’! ক্যাম্পাস থেকেই মোটা টাকার অফারে পড়ুয়াদের নিয়ে নেবে বড় বড় কোম্পানি
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ প্রকল্প’! ক্যাম্পাস থেকেই মোটা টাকার অফারে পড়ুয়াদের নিয়ে নেবে বড় বড় কোম্পানি
 
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ

ডিগ্রি অর্জন তো হবেই পাশাপাশি এবার সরাসরি কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ এল পড়ুয়াদের সামনে। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020)-র রূপায়ণে আরও এক বড় পদক্ষেপ করল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো ‘প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিম’ (PMI)-এর। ষষ্ঠ সেমেস্টার শেষ করলেই এবার পড়ুয়ারা নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন নামী সংস্থায় ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পড়ুয়াদের সেই ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিতে এ বার প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিম চালু করে দিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের আওতায় ছমাসের ইন্টার্নশিপে মোট ৬০ হাজার টাকা স্টাইপেন্ড পাবেন পড়ুয়ারা। জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৩০০ জন পড়ুয়ার। চার বছরের ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ন বিষয়ভিত্তিক হবে এই ইন্টার্নশিপ। কেন্দ্রের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রক, রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা বিভাগ এবং ‘সিআইআই’ (CII)-এর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেখে এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেল পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেকেই মনে করছেন, এই একটি ইন্টার্নশিপ চাকরীপ্রার্থীদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক বলিষ্ঠ ‘হাতিয়ার’ হয়ে উঠতে পারে।
 
বিশেষজ্ঞরা জানালেন, চাকুরিবাজারে ফ্রেশারদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি থাকে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতায়। এই প্রকল্প ফ্রেশারদের জন্য সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের মতে, শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া অবস্থায় দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ণ করতে পারলে কর্মসংস্থানের উদ্বেগ অনেকটাই কমবে। এক কথায় বলা যায়, ইন্টারশিপ পর্যায়ে  কাজের পারফরম্যান্স ভালো হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাই পরবর্তীতে স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করতে পারে সেই পড়ুয়াকে।
 
কলেজ পরিদর্শক দীপ্তেন্দু চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের মেধা ও সম্ভাবনা বিচার করা হবে। পাশাপাশি তাঁরা যেখানে থাকেন তার কাছাকাছি সংস্থায় কাজের সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কারণ, যাতায়াতের সমস্যা দূর করে কাজে বাড়তি গতি এনে দেবে।এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে কেরিয়ার গড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশাগত উন্নতির পাঠ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ার অঙ্গীকারও গ্রহণ করেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশিষ্টজনেরাও এদিনের অনুষ্ঠান থেকে পড়ুয়াদের জীবনের যেকোনো ধরনের নেশা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
 
‘প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ প্রকল্প’ যে আগামী দিনে যুবসমাজকে আত্মনির্ভর করে তুলতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা নেবে তা একবাক্যে স্বীকার করেছেন শিক্ষামহলের একাংশ।


শেহতীয়া খবৰ