বাঁকা চোখে দেখা বন্ধ হোক, হোক পরিকাঠামোর বদল! মাদ্রাসা সমীক্ষা নিয়ে সংখ্যালঘু আবেগের সুর শোনা গেল শিক্ষাবিদের গলায়
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 23 h ago
বাঁকা চোখে দেখা বন্ধ হোক, হোক পরিকাঠামোর বদল! মাদ্রাসা সমীক্ষা নিয়ে সংখ্যালঘু আবেগের সুর শোনা গেল শিক্ষাবিদের গলায়
তরুণ নন্দী / কলকাতা
রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আগামী ৫ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে সরকারি, বেসরকারি, স্বীকৃত কিংবা অস্বীকৃত সমস্ত মাদ্রাসার সামগ্রিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকদের। নবান্নের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের কারণ স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, একটি সঠিক তথ্যভান্ডার তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এই সমীক্ষা। যার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতি নির্ধারণ করা সহজ হবে।
এতে আশঙ্কার কোন কারণ নেই। কোনো মাদ্রাসার স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হবে না। মাদ্রাসার পরিকাঠামো উন্নত করতে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক মনে করছেন মাদ্রাসায় শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত থাকা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। সরকারের এই দূরদর্শী ভাবনার কারনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের আবেগ ও চাহিদার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মহম্মদ সালাউদ্দিন সরকারের এই নির্দেশিকাকে সাধুবাদ জানিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এক অত্যন্ত সংবেদনশীল আর বাস্তবসম্মত বিষয়ের দিকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর মতে, মাদ্রাসায় সমীক্ষা হলে আমরা সবরকম সহযোগিতা করব। যাতে মাদ্রাসাগুলোর উন্নতি হয়। তবে খারিজি মাদ্রাসাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারকে আলাদা করে বিচক্ষণতার সঙ্গে ভাবতে হবে।
আসলে সংখ্যালঘু সমাজের আবেগ ও ঐতিহ্য কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে। শিক্ষাবিদদের একাংশের দাবি, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র ধর্মীয় পাঠ দেয় না, যুগ যুগ ধরে মাদ্রাসায় পড়া পড়ুয়ারা নিজেদের সুশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছেন। অনেকক্ষেত্রেই দেখা গেছে মাদ্রাসায় শিক্ষা নেওয়া বহু পড়ুয়া রাজ্য তথা সমগ্র দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
শিক্ষাবিদদের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য, মাদ্রাসা শিক্ষাকে ‘ধর্মীয় শিক্ষা’ হিসেবে দেখে বাঁকা চোখে বিচার করার চলতি মানসিকতাকে বদলাতে হবে। মূল ধারার আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে উন্নত পরিকাঠামোর সুবিধা পায় সেটাই এখন আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা।
মাদ্রাসায় পঠনরত শিক্ষার্থীদের একটি ছবি
মাদ্রাসায় সরকারের মেগা সমীক্ষার এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাবিদ মহম্মদ সালাউদ্দিন জানালেন, সমীক্ষা যেন কোনোভাবেই একপেশি না হয়ে ওঠে। শিক্ষার উন্নতিতে মাদ্রাসাগুলোর আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের সোপান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। অনুদানহীন বা খারিজি মাদ্রাসাগুলোর পড়ুয়ারা যাতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য বিশেষ রূপরেখা তৈরি করা প্রয়োজন। এতে করে মাদ্রাসা শিক্ষার ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে।
নবান্নের এই সমীক্ষা যদি সত্যিই কোনো ভেদাভেদ ছাড়া মাদ্রাসাগুলোর পঠনপাঠন, ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ও পরিকাঠামোর খামতিগুলো দূর করতে সাহায্য করে তবে তা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আবেগকে মান্যতা দিয়ে রাজ্য সরকার কীভাবে এই সমীক্ষাকে মাদ্রাসাগুলোর সার্বিক কল্যাণে রূপান্তরিত করবে, এখন সেটা দেখার অপেক্ষা গোটা শিক্ষামহল।