১০ কিলোমিটারের মধ্যে তিন কলেজ! শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাতে বেহাল ছবির ইঙ্গিত রিপোর্টে, নজর NIRF র্যাঙ্কিংয়ে
কলকাতা
কোথাও পড়ুয়াদের উপচে পড়া ভিড়, কোথাও আবার পর্যাপ্ত শিক্ষক ও উন্নত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও ফাঁকা ক্লাসরুম। রাজ্যের সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজগুলির পরিকাঠামো এবং পড়ুয়া বণ্টনে এমনই অসামঞ্জস্যের ছবি উঠে এসেছে NIRF (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক) সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির রিপোর্টে। রাজ্যের কলেজগুলির সর্বভারতীয় ক্রমতালিকায় অবস্থান উন্নত করতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখেই এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে।
সূত্রের খবর, উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ১১০টি কলেজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে ১৪ সদস্যের কমিটি। সেই পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে, পরিকল্পনার অভাবে কোনও কোনও এলাকায় ১০ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে তিনটি পর্যন্ত কলেজ। ফলে পুরনো ও পরিচিত কলেজগুলিতে পড়ুয়াদের চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে, নতুন কলেজগুলিতে উন্নত পরিকাঠামো এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পড়ুয়ার সংখ্যা আশানুরূপ নয়।
কলেজগুলিতে আসন বৃদ্ধির পরিকল্পনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে পড়ুয়া বণ্টনের অসামঞ্জস্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে অপ্রয়োজনীয় আসন বৃদ্ধির প্রবণতা এবং কলেজগুলির মধ্যে এই ভারসাম্যহীনতা সর্বভারতীয় মূল্যায়নে রাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলির স্কোর ও র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলছে। পরিদর্শন সংক্রান্ত রিপোর্টে কলেজগুলির পরিকাঠামো ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক সমস্যার কথা উঠে এসেছে।
তবে কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নয় বিশেষজ্ঞ কমিটি। বরং শিক্ষার মানোন্নয়নে স্কুলস্তরের মতো কলেজেও শিক্ষক বদলি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক ও পড়ুয়ার মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কোন কলেজে কত শিক্ষক প্রয়োজন, কোথায় পড়ুয়ার চাপ বেশি এবং কোথায় শিক্ষকের সংখ্যা তুলনায় বেশি, সেই বিষয়গুলি বিবেচনা করে ভারসাম্য আনার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৭ সালের সর্বভারতীয় ক্রমতালিকায় অন্তত ২০টি রাজ্যকে প্রথম সারিতে তুলে আনার লক্ষ্যে ‘মিশন-২০’ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর। সেই লক্ষ্য পূরণে কলেজগুলির কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করাই এই কমিটির অন্যতম দায়িত্ব।
জানা গিয়েছে, জুলাই মাস নাগাদ রাজ্যের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষাদপ্তরের দুই আধিকারিককে নিয়ে ১৪ সদস্যের ‘স্টেট লেভেল অ্যাডভাইসারি অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি ফর এনআইআরএফ’ গঠন করা হয়। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কীভাবে শিক্ষার মান, পরিকাঠামো এবং সর্বভারতীয় মূল্যায়নে অবস্থান উন্নত করা যায়, তা নিয়েই কাজ করছে কমিটি। এবার সেই সুপারিশ বাস্তবায়নে উচ্চশিক্ষা দপ্তর কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর শিক্ষামহলের।