১৯ দিনের আন্দোলনে অবশেষে সাফল্য, ৫ নভেম্বর AMU-তে ছাত্র সংসদ নির্বাচন, নতুন প্রোক্টর নিয়োগে ধরনা প্রত্যাহার
আওয়াজ দ্য ভয়েস / আলিগড়
১৯ দিনের টানা আন্দোলন, অনশন এবং দাবিদাওয়ার পর অবশেষে পড়ুয়াদের দাবি মেনে নিল আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (AMU) কর্তৃপক্ষ। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে জানানো হয়েছে, আগামী ৫ নভেম্বর হবে ভোটগ্রহণ। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নতুন প্রোক্টর নিয়োগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই দুই সিদ্ধান্তের পরই আন্দোলন প্রত্যাহার করে ধরনাস্থল খালি করে দেন বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা।
এই আন্দোলনে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়া ইয়াসির ফাহাদের অনির্দিষ্টকালের অনশন অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছিল। পড়ুয়াদের দাবিগুলি মেনে নেওয়ার পর উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন আন্দোলনস্থলে পৌঁছন। তিনি ইয়াসির ফাহাদকে জুস খাইয়ে তাঁর অনশন ভঙ্গ করান। এর সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গত ১৯ দিন ধরে চলা প্রতিবাদ কর্মসূচির অবসান ঘটে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা এবং প্রোক্টর পরিবর্তনের দাবি আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর সন্তোষ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। ধরনাস্থলে উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমর্থনে স্লোগানও দেওয়া হয়। পড়ুয়ারা স্বেচ্ছায় আন্দোলনস্থল খালি করে দেন।
৫ নভেম্বর হবে AMU ছাত্র সংসদ নির্বাচন
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৯ অক্টোবর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কর্মসূচি প্রকাশ করেছে। সেই অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের AMU ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আগামী ৫ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা প্রস্তুত, মনোনয়নপত্র জমা এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
নির্বাচনী কর্মসূচি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ডিনরা ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টায় ভোটার তালিকা প্রকাশ করবেন। তালিকায় নাম বা অন্যান্য তথ্যের ভুল সংশোধনের জন্য ২৭ অক্টোবর দুপুর ২টোর মধ্যে আবেদন করা যাবে। ওই দিনই বিকেল ৪টেয় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
প্রার্থীরা ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত AMUSU কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ওই দিনই বিকেল ৪টেয় মনোনয়নপত্র যাচাই করা হবে। ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপর বিকেল ৪টেয় বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে ৩১ অক্টোবর সকাল ১০টায় প্রার্থীদের ক্রমিক নম্বর বরাদ্দ করা হবে। ওই দিনই বিকেল ৪টেয় ক্রমিক নম্বর-সহ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের চূড়ান্ত ভাষণ আগামী ৩ নভেম্বর দুপুর ২টো থেকে ইউনিয়ন হলের ছাদে আয়োজন করা হবে। এর দু’দিন পর, ৫ নভেম্বর হবে ভোটগ্রহণ।
AMU ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আগামী ৫ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টিগুলিতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। দুপুর ১টা থেকে ২টো পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ওই দিনই সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত গণনা চলবে। ভোট গণনার স্থান পরে জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব আইন বিভাগের অধ্যাপক জাভেদ তালিবের হাতে তুলে দিয়েছে। তাঁকে AMU ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও, মহিলা কলেজের স্নাতক স্তরের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন আধিকারিক করা হয়েছে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাজিয়া হাসানকে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্যই এই নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচনী কর্মসূচি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে গেল। এখন পড়ুয়াদের নজর থাকবে মনোনয়ন জমা, প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং ভোটগ্রহণের দিকে।
অধ্যাপক মহম্মদ নাফিস আহমেদ আনসারি নতুন প্রোক্টর
পড়ুয়াদের দ্বিতীয় প্রধান দাবিতে পদক্ষেপ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মহম্মদ নাফিস আহমেদ আনসারিকে নতুন প্রোক্টর হিসেবে নিয়োগ করেছে। তিনি ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মহম্মদ নাভেদ খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রোক্টরের নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। ছাত্র আন্দোলনের সময় এই পদে পরিবর্তনের দাবিও উঠেছিল। নির্বাচনের ঘোষণা করার পাশাপাশি প্রোক্টর পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পরেই আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং প্রোক্টর নিয়োগের বিষয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের মধ্যে চলা অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া এবং ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র সংসদ গঠনের পরবর্তী ধাপগুলির দিকে নজর থাকবে।
অধ্যাপক খাতুনের মতে, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ বেরিয়ে এসেছে। তিনি পড়ুয়াদের আবেদন জানান, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক জীবনেও যেন তাঁরা একইভাবে পারস্পরিক বিশ্বাস ও শান্তির পরিবেশ বজায় রাখেন।
এই সমাধানে পৌঁছনোর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকগুলিতে পড়ুয়াদের দাবি এবং তাঁদের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনের অবসান ঘটানো এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে নির্বাচনী কর্মসূচি প্রকাশ এবং নতুন প্রোক্টর নিয়োগের পর দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়। এরপর ইয়াসির ফাহাদ অনশন প্রত্যাহার করেন এবং অন্য আন্দোলনকারী পড়ুয়ারাও ধরনা তুলে নেন।
আন্দোলনে ফের সামনে এল ছাত্র প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কেবল ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের প্রতিনিধিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হল ছাত্র সংসদ। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা নিজেদের সমস্যা, দাবি এবং পরামর্শ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে পারেন।
এ বার ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ১৯ দিন ধরে চলা আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটিকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিবাদের সময় পড়ুয়ারা নির্বাচন আয়োজন এবং প্রোক্টর পরিবর্তনের দাবি জানান। ইয়াসির ফাহাদের অনির্দিষ্টকালের অনশন আন্দোলনটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
প্রশাসনের তরফে দুই প্রধান দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলনের অবসান ঘটে। এখন নির্বাচনী কর্মসূচি অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়ন জমা এবং ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এই পুরো ঘটনাক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ আধিকারিক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিও ছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক এম. মহসিন খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আসিম জাফর, ডিন অফ স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অধ্যাপক এম. আতহার আনসারি, নতুন প্রোক্টর অধ্যাপক মহম্মদ নাফিস আহমেদ আনসারি এবং নির্বাচন আধিকারিক অধ্যাপক জাভেদ তালিব।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ামক অধ্যাপক মুজিব উল্লাহ জুবেরি, কালচারাল এডুকেশন সেন্টারের সমন্বয়ক অধ্যাপক এম. রিজওয়ান খান, অধ্যাপক আফসর আলি খান, অধ্যাপক মহম্মদ সরোশ ওমর, অধ্যাপক বিভা শর্মা, অর্থ আধিকারিক নূরুস সালাম, অধ্যাপক নবিউল্লাহ এবং অধ্যাপক এম. জে. ওয়ারসি-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আধিকারিক ও শিক্ষকরা।
এখন নজর ৫ নভেম্বরের ভোটগ্রহণে
১৯ দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচির পর অবশেষে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের অবসান ঘটেছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করার পথ পরিষ্কার হয়েছে।
আগামী দিনগুলিতে ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়নপত্র যাচাই, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর ৫ নভেম্বর ভোটগ্রহণ করা হবে এবং ভোট গণনার পর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পড়ুয়াদের মধ্যে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। আন্দোলন প্রত্যাহারের পর ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করাই এখন প্রশাসনের সামনে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অন্যদিকে, পড়ুয়াদেরও নজর থাকবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার দিকে।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: AMU ছাত্র সংসদ নির্বাচন কবে হবে?
উত্তর: আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্ন: AMU-তে ছাত্র আন্দোলন কেন প্রত্যাহার করা হল?
উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন এবং নতুন প্রোক্টর নিয়োগের দাবি মেনে নিয়েছে। এরপরই ১৯ দিনের আন্দোলনের অবসান ঘটে।
প্রশ্ন: ইয়াসির ফাহাদ কে?
উত্তর: ইয়াসির ফাহাদ আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়া। ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন।
প্রশ্ন: AMU ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন আধিকারিক কে?
উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক জাভেদ তালিবকে AMU ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।