অনলাইন পড়েই নিটে ৬২২, নজর কাড়লেন রায়গঞ্জের নাজমুল

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Aparna Das • 8 h ago
নাজমুল হুদা
নাজমুল হুদা
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের এলেঙ্গিয়ার ছিনাহার গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে নাজমুল হুদা শুধুমাত্র অনলাইন পড়াশোনার মাধ্যমে নিট পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে এলাকার গর্ব হয়ে উঠেছেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, কোচিং সেন্টারে যাওয়ার অক্ষমতা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
 
নাজমুল স্থানীয় মাড়াইকুড়া ইন্দ্রমোহন উচ্চ বিদ্যাভবন থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। পরে তিনি নিট পরীক্ষায় ৭২০-এর মধ্যে ৬২২ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় স্তরে উল্লেখযোগ্য স্থান অর্জন করেন।
 
নাজমুল হুদা
 
তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে গভীর মানবিক অনুভূতি। পরিবারের এক নিকট আত্মীয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে মারা যাওয়ার ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি চিকিৎসক হওয়ার সংকল্প নেন।
 
নাজমুলের বাবা কুরবান আলি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। সীমিত আয়ে সংসার চালানোই ছিল পরিবারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ব্যয়বহুল কোচিংয়ের খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু নাজমুল হাল ছাড়েননি। একটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন কোচিং নিয়ে তিনি বাড়িতে বসেই প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রথম প্রচেষ্টায় সাফল্য না এলেও দ্বিতীয়বার আরও মনোযোগ ও পরিশ্রমের সঙ্গে প্রস্তুতি নিয়ে তিনি কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করেন।
 
গ্রামবাসীরা নাজমুলকে অভিনন্দন জানানোর একটি দৃশ্য
 
নাজমুল জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি নিউরোলজিস্ট হতে চান এবং বিশেষ করে গরিব ও দুঃস্থ মানুষের চিকিৎসা করার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর এই মানবিক লক্ষ্য সমাজের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মানুষজন তাঁকে সংবর্ধনা জানান এবং ভবিষ্যতের পড়াশোনার জন্য পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
 
এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, পরিবারের উৎসাহ এবং নিজের প্রতি আস্থা থাকলে গ্রামবাংলার মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাও জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করতে পারে।
 

নাজমুল হুদার এই সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প সমাজের সকলের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর পথচলা আগামী দিনে আরও বহু স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীকে নতুন করে লড়াই করার সাহস জোগাবে।


শেহতীয়া খবৰ