প্রথমবারেই অল-ইন্ডিয়া ২০০ র‍্যাঙ্ক! দিদি আছেন NRS-এ, এবার প্রথম চেষ্টাতেই ৬৮৫ পেয়ে NEET কাঁপাল ভাই তানভীর

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 2 d ago
তানভীর ইসরার আল হক
তানভীর ইসরার আল হক
 
তরুণ নন্দী, কলকাতা

অদম্য ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। এই কথাটিকে বাস্তবে আরও একবার প্রমাণ করলেন মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের হাউস নগর গ্রামের ভূমিপুত্র তানভীর ইসরার আল হক। প্রথম সুযোগেই সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET) -এ অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে তাঁর। সর্বভারতীয় স্তরে দেখা গেল তানভীরের র‍্যাঙ্ক ২০০। পরীক্ষায় ৭২০ নম্বরের মধ্যে তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৫। তানভীরের এই অভাবনীয় সাফল্যে গোটা মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে এখন উৎসবের মেজাজ।
 
পরিবার সূত্রে খবর, ছোট থেকেই মেধাবী তানভীরের এই সাফল্যের পথটা অবশ্য সহজ ছিল না। তাঁর এই রেজাল্টের পিছনে রয়েছে এক কঠিন অধ্যাবসায়। জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের ছাত্র তানভীর নিজের মেধার জোরেই মহারাষ্ট্রের পুনেতে অত্যন্ত সম্মানজনক ‘দক্ষণা স্কলারশিপ’ (Dakshana Scholarship) লাভ করেন।
 
তানভীর ইসরার আল হক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে
 
বলা ভালো, সেখান থেকেই তানভীর শুরু করে জেন নিট পরীক্ষার চূড়ান্ত ও কঠিন প্রস্তুতি। পড়ার প্রস্তুতি এতটাই নিঁখুত ছিল যে, প্রথমবারেই লক্ষ্যভেদ করে তানভীর প্রমাণ করে দিয়েছে লক্ষ্য স্থির থাকলে জীবনে সাফল্য আসবেই।
 
তানভীর জানান, তাঁর পরিবারে শিক্ষার পরিবেশ সবসময়ই অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তার বাবা মোহাম্মদ তোজিবুল হক পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং মা গৃহবধূ। তানভীরের পরিবারের চিকিৎসা পরিসরের শিকড়টা বোধহয় আরও গভীরে। জানা গেছে, তানভীরের বড় দিদি নিশাত তাসনিমও বর্তমানে কলকাতার এনআরএস (NRS) মেডিক্যাল কলেজের কৃতী পড়ুয়া। তাই বলা যেতে পারে,  দিদির দেখানো পথ অনুসরণ করেই ভাই তানভীর এবার চিকিৎসার আঙিনায় পা রাখতে চলেছে।
 
ছেলের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যে আবেগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন বাবা-মা। অন্যদিকে, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তানভীর অত্যন্ত সংকল্পবদ্ধ। তিনি জানালেন, আগামীতে একজন ও মানবিক চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চান। নিজের জন্মভিটে এবং তার আশেপাশের এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াই এখন তানভীরের জীবনের প্রধান ব্রত।
 

ছেলের এই সাফল্য বাবা মোহাম্মদ তোজিবুল হক এতটাই খুশি হয়ে বললেন, এতটা আনন্দ হচ্ছে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সন্তানরা সকলেই চিকিৎসা জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় গর্ব করে তিনি বলেন, সন্তানদের সাফল্যে আমি গর্বিত। প্রথম চেষ্টাতেই সর্বভারতীয় স্তরে বাজিমাত করা মেধাবী ছাত্র  সামসেরগঞ্জের তানভীর আজ গোটা মুর্শিদাবাদ জেলার গর্ব।


শেহতীয়া খবৰ