শ্রীনগরঃ
কাশ্মীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক সেমিনারিকে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে অঞ্চলটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, দারুল উলুম জামিয়া সিরাজুল উলুমকে ইউএপিএ আইনের আওতায় বেআইনি সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির ১৭ জন প্রাক্তন ছাত্র সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিয়েছিল এবং পরে পৃথক এনকাউন্টারে নিহত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিক বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ১৭ জন প্রাক্তন ছাত্র জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছিল এবং পরে বিভিন্ন এনকাউন্টারে নিহত হয়, যা মতাদর্শগত প্রভাব ও নিয়োগের ধারাবাহিক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।”
২৪ এপ্রিল কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার অংশুল গর্গ, শোপিয়ানের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশের জমা দেওয়া একটি ডসিয়ারের ভিত্তিতে দুই পাতার নির্দেশ জারি করেন। সেখানে শোপিয়ানের ইমাম সাহিব এলাকায় অবস্থিত দারুল উলুম জামিয়া সিরাজুল উলুমে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ তোলা হয়।
গর্গের নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জামাত-ই-ইসলামির দীর্ঘদিনের গোপন ও সক্রিয় যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালে জামাত-ই-ইসলামিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও একাডেমিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে কার্যত নিয়ন্ত্রণ চালাচ্ছিলেন।নির্দেশে বলা হয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিতে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যা উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হওয়ার পক্ষে সহায়ক ছিল এবং বহু প্রাক্তন ছাত্র সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল।তবে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফি লোন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের সঙ্গে জামাত-ই-ইসলামি বা কোনও বেআইনি সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আইন মেনে চলা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নিষিদ্ধ জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বর্তমানে এখানে ৮১৪ জন ছাত্র পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি বোর্ড অব স্কুল এডুকেশন এবং কাশ্মীর স্কুল ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত।”
তিনি আরও জানান, গত মাসে কর্তৃপক্ষ তাদের শোকজ নোটিস পাঠিয়েছিল এবং তার যথাযথ জবাবও দেওয়া হয়েছে।লোন বলেন, “তারপরও যদি কর্তৃপক্ষের কোনও সন্দেহ থাকে, তাহলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সরকার যে পদক্ষেপ নেবে, আমরা তা সমর্থন করব।”
ওই আধিকারিক জানান, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে এমন রিপোর্ট তৈরি করেছে যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজ্যের অখণ্ডতার পরিপন্থী কার্যকলাপে প্রতিষ্ঠানটির জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।তিনি আরও বলেন, “তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এমন এক সমর্থনমূলক পরিবেশ ছিল যা বেআইনি ও দেশবিরোধী কার্যকলাপকে উৎসাহ দিত। নিহত বহু জঙ্গির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা জামিয়া সিরাজুল উলুমের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।”
আইনি ব্যবস্থা এড়াতে নিষিদ্ধ জামাত-ই-ইসলামির সদস্যরা প্রক্সির মাধ্যমে গোপনে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল বলে ওই আধিকারিক দাবি করেন।