পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড় বদল! বইয়ে ঠাঁই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের, বাদ সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়
কলকাতা
'
পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান সম্পর্কে পড়ানো হবে পড়ুয়াদের। অন্যদিকে, অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের অধ্যায়। বুধবার সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, একটি বিশেষ কমিটির তৈরি করা সংশোধিত পাঠ্যক্রমে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এবং রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিটি পাঠ্যবইয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি থাকবে।
পাশাপাশি, ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে তৃণমূল সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘কন্যাশ্রী’র অধ্যায়ও বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে ওই কমিটি। উল্লেখ্য, ছাত্রীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প চালু করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার।
নতুন পাঠ্যক্রমে প্রযুক্তিগত শিক্ষার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (ICT) একটি নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম-সহ স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে চালু করা হবে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তৃতীয় ভাষার পাঠ্যবইও আনা হচ্ছে।
এছাড়া, প্রতিটি পাঠ্যবইয়ের শুরুতে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, পাঠ্যবইয়ের কাগজের গুণমানও আগের তুলনায় উন্নত করা হয়েছে।
নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে ‘নো ডিটেনশন’ নীতি তুলে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ ব্যাপারে খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
অন্যদিকে, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওই বছর জনগণনা প্রক্রিয়ায় স্কুলশিক্ষকদের নিয়োগ করা হতে পারে। ফলে পরীক্ষার সঙ্গে জনগণনার কাজের সংঘাত এড়াতেই পরীক্ষার দিনক্ষণ পুনর্নির্ধারণের কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) প্রস্তাব দিয়েছে, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা ১৫ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২ থেকে ১৬ মার্চের মধ্যে নেওয়া হোক। অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা ২২ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য সূচির পরিবর্তে ১৬ মার্চের পর আয়োজনের প্রস্তাব দিতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পর্ষদ ও সংসদের প্রস্তাব সরকারের কাছে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষার সংশোধিত দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।