WBCS-এ চতুর্থ আতিয়া রহমান! গ্রুপ-এ ছেড়ে কেন বেছে নিলেন DSP-র জীবন? কোন সিদ্ধান্তে ঘুরল জীবনের মোড়, জানলে কুর্নিশ জানাবেন

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 6 h ago
WBCS-এ চতুর্থ আতিয়া রহমান! গ্রুপ-এ ছেড়ে কেন বেছে নিলেন DSP-র জীবন? কোন সিদ্ধান্তে ঘুরল জীবনের মোড়, জানলে কুর্নিশ জানাবেন
WBCS-এ চতুর্থ আতিয়া রহমান! গ্রুপ-এ ছেড়ে কেন বেছে নিলেন DSP-র জীবন? কোন সিদ্ধান্তে ঘুরল জীবনের মোড়, জানলে কুর্নিশ জানাবেন
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

এই জায়গাটায় পৌঁছানোর  স্বপ্নটা ছিল ছোটবেলা থেকেই। সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছে তৈরি হয়েছিল শৈশবের গন্ডি পেরিয়ে। সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় বারবার এসেছে বাধা। কখনও বয়সের সীমাবদ্ধতা, কখনও পরীক্ষায় ব্যর্থতা, আবার কখনও দিল্লিতে থেকে UPSC-র প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পরিবার থেকে দূরে থাকার মানসিক চাপ। লক্ষ্য ঠিক রাখতে একেবারেই হাল ছাড়েননি আতিয়া রহমান।
 
আত্মবিশ্বাসের জোরে ২০২১ সালের WBCS পরীক্ষায় রাজ্যের মধ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন তিনি। সামনে গ্রুপ-এ-তে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত বেছে নেন গ্রুপ-বি-র ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (DSP) পদ।  কিন্তু কেন তিনি গ্রুপ-এ ছেড়ে কেন বেছে নিলেন DSP-র জীবন? এর নেপথ্যের কারণ জানলে স্যালুট জানাতে ইচ্ছে হবে আতিয়া রহমানকে।
 
আতিয়া রহমান
 
জানা গেছে, আতিয়ার জন্ম কলকাতার পার্ক সার্কাসে। বাবা মোখলেছুর রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী।  মা শবনম বানু আখড়া গার্লস হাই মাদ্রাসার শিক্ষিকা। পরিবারের একমাত্র মেয়ের পড়াশোনায় ছোট থেকেই বাবা-মায়ের বিশেষ নজর ছিল। মহাদেবী বিড়লা ওয়ার্ল্ড একাডেমিতে পড়াশোনা শুরু করে মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পান আতিয়া রহমান। সেই ধারা বজায় রেখে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৮ শতাংশ নম্বর পান তিনি। এরপর আশুতোষ কলেজ থেকে ভূগোল নিয়ে স্নাতক হন। উচ্চশিক্ষার জন্য বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন আতিয়া।
 
কিন্তু এর পরেও তাঁর লক্ষ্য ছিল আরও উপরের দিকে। সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। স্নাতকোত্তরের শেষ বর্ষ থেকে শুরু করে দেন WBCS পরীক্ষার প্রস্তুতি। কলকাতায় প্রশিক্ষণ নিয়েও প্রথম ধাক্কা আসে ২০২০ সালে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি আতিয়া। বয়সের সীমাবদ্ধতার কারণে ওই বছর সব গ্রুপের জন্য বিবেচিত হওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা ছিল। কিন্তু ব্যর্থতাকে শেষ বলে মেনে নেননি তিনি। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হজ কমিটির উদ্যোগে সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণে ৫০টি আসনের মধ্যে ১০ জন ছাত্রীর একজন হিসেবে সুযোগ পান। ফের নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেন।
 
এরই মধ্যে মেধাবী আতিয়া UPSC-র প্রস্তুতির সুযোগ পেয়ে দিল্লিতে চলে যান। নতুন শহর সেইসঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতা, সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এগোচ্ছিলেন ঠিকই, এরই মাঝে আসে WBCS প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার খবর। এবার দ্বিধায় পড়লেন। দিল্লিতে থেকে সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি চালাবেন, নাকি কলকাতায় ফিরে রাজ্যের পরীক্ষায় মন দেবেন? মেয়েকে উদ্বিগ্ন দেখে চিন্তিত ছিলেন বাবা-মাও।
 
শেষ পর্যন্ত মা শবনম বানুর অনুরোধে কলকাতায় ফিরে মেইন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মন দেন আতিয়া। সেই এক সিদ্ধান্তই যেন হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দিনটা ছিল ২০২৩ সালের ৩০ জুন। কলকাতায় শপিং করতে গিয়ে মেইন পরীক্ষায় সফল হওয়ার খবর পান তিনি। এরপর ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি। একে একে সুন্দরভাবে পেরিয়ে যান সাফল্যের শেষ ধাপও। চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হলে জানা যায়, আতিয়া রহমান রাজ্যের মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। কিন্তু তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তখনও বাকি।
 
আতিয়া রহমান
 
গ্রুপ-এ-তে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও আতিয়া DSP হওয়ার পথ বেছে নেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হজ কমিটির চেয়ারম্যান নাদিমুল হকের সঙ্গে কথা বলার পর পুলিশ প্রশাসনে যোগ দেওয়ার আগ্রহ আরও দৃঢ় হয়। ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রশিক্ষণ শুরু করে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি বারাসাত পুলিশ জেলায় DSP (প্রোবেশনারি) হিসেবে কাজে যোগ দেন আতিয়া।
 
পুলিশ প্রশাসনে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি বুঝেছেন, সাফল্য মানে শুধু নিজের প্রতিষ্ঠা নয়, অন্যদের এগিয়ে যাওয়ার পথও তৈরি করা। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা ও স্বনির্ভরতার উপর জোর দেন তিনি। আতিয়া মনে করেন, মেয়েদের  প্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রত্যেককে শিক্ষা অর্জন করতে হবে। সুন্দর সমাজ গড়তে চাইলে অবশ্যই মেয়েদের অগ্রগতি জরুরি।
 
বয়সের বাধা, প্রথম ব্যর্থতা কিম্বা পরিবার থেকে দূরে থাকা, বারবার প্রতিকুলতায় পড়েও কোনও কিছুই শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে পারেনি আতিয়াকে। আসলে আতিয়ার মত বহু সফল নারীই মনে করেন, সাফল্যের পথে বাধা আসলেও লক্ষ্য স্থির থাকলে আর নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে সেই বাধাই একদিন এগিয়ে যাওয়ার সিঁড়ি হয়ে উঠতে পারে।


শেহতীয়া খবৰ