বাংলা তথা ভারতের দূরপাল্লার সাঁতারু পশ্চিম মেদিনীপুরের আফরিন জাবি আবার বাংলার সাঁতারকে গর্বিত করতে চলেছেন। ইংলিশ চ্যানেল ও পক প্রণালী জয়ের সাফল্যের পর এবার বিশ্বের অন্যতম কঠিন ওপেন ওয়াটার সাঁতারের চ্যালেঞ্জ ক্যাটরিনা চ্যানেল অতিক্রম করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল থেকে তিনি সাঁতার অভিযান শুরু করবেন এই চ্যানেল অতিক্রম করার উদ্দেশ্য।
আফরিন এর আগে ২৯ জুলাই ২০২৫ ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে এক অনন্য নজির গড়েছিলেন। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চ্যানেল তিনি পাড়ি দিতে সময় নিয়েছিলেন ১৩ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। এরপর চলতি বছরের ৯ মে তিনি ভারত ও শ্রীলংকার মধ্যবর্তী প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ পক প্রণালী সফলভাবে সাঁতরে অতিক্রম করেছিলেন। সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে তার সময় লেগেছিল ৭ ঘন্টা ৫ মিনিট।
আফরিন জাবি
এবার আফরিনের লক্ষ্য ক্যাটরিনা চ্যানেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে সাঁতার শুরু করে ক্যাটরিনা দ্বীপে পৌঁছানোর এই অভিযান বিশ্বের অন্যতম কঠিন ওপেন ওয়াটার সাঁতারের পরীক্ষাগুলির একটি হিসেবে পরিচিত।
এখানকার জল সাধারণত রাতের দিকে বা সকালে বেশ ঠান্ডা থাকে এবং হঠাৎ স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে সাঁতারুদের জন্য এটি দারুণ ঝুঁকিপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর। আর এই কঠিন চ্যানেলটি আরফিন সেপ্টেম্বর মাসেই অতিক্রম করার লক্ষ্য রেখেছেন।
মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা আফরিনের বাবা পিয়ার আলী ও মা সাবিনা পারভীন সব সময়ই মেয়েকে এনিয়ে উৎসাহ দিয়ে চলেছেন। বর্তমানে ক্যাটরিনা চ্যানেল অভিযানের জন্য কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত আফরিন। কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে, এই নিয়ে কোন ভয় নেই আফরিনের। নির্ভীক আফরিন জানান, আগেও তো দুটো চ্যানেল অতিক্রম করেছি। সুতরাং ভয় করছি না। তবে এই অতিক্রম করা একটু কঠিন। শুনেছি এই পথে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। থাকলেও সেই চ্যালেঞ্জ আমি জয় করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তবে আন্তর্জাতিক এই অভিযানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থের সংস্থান। আফরিন জানান, এই চ্যানেল অতিক্রম করতে লাগবে ২৮ লক্ষ টাকা। চ্যানেল অতিক্রম করার লক্ষ্য আমার ছিল ৩১ জুলাই। কিন্তু অর্থের সংস্থান করতে না পেরে আমি পিছিয়ে দিয়েছি চ্যানেল অতিক্রম করার সময়টা।
আফরিন জানান, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিএম বীজিন কৃষ্ণানের সহায়তায় রেশমি কোম্পানির পক্ষ থেকে আমাকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। এতে আমি দারুণ খুশি। কিন্তু বাকি টাকা সংগ্রহ করব কিভাবে এই চিন্তাটা আমার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আফরিন বলছেন, "পর্যাপ্ত স্পন্সর ও আর্থিক সহযোগিতা না পেলে এই চ্যানেল অতিক্রম করা অসম্ভব হয়ে উঠবে। জানিনা আগামী দুই একটা মাসে কি আছে আমার ভাগ্যে।" আফরিনের কথায়,"স্পনসন না পেলে আমার সাত সমুদ্র জয়ের স্বপ্নটাই অধরা থেকে যাবে।"