নালসার-এর ২০২৬ ব্যাচকে এনরোলমেন্টে বাধার নির্দেশ বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার প্রত্যাহার, বিতর্কে সাফাই মনন মিশ্রের
নয়াদিল্লি:
দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে নালসার-এর ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট ব্যাচকে আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্টে বাধা দেওয়ার নির্দেশ প্রত্যাহার করল বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (বিসিআই)। বিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তকে তরুণদের স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে ককরোচ জনতা পার্টি।
বৃহস্পতিবার বিসিআই রাজ্য বার কাউন্সিলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল, নালসার-এর ২০২৬ ব্যাচের কোনও পড়ুয়াকে আইনজীবী হিসেবে এনরোল না করতে। অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করেছিলেন কয়েকজন পড়ুয়া।
বিসিআই-এর চেয়ারম্যান তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ মনন কুমার মিশ্রের নির্দেশে বলা হয়েছিল, দেশের সর্বোচ্চ বিচারব্যবস্থার পদকে সম্মান করতে পারেন না এমন পড়ুয়ারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল আইনজীবী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তিন দিনের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের নাম চাওয়া হয়েছিল।
তবে নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় ব্যাপক প্রতিবাদ। সামাজিক মাধ্যমেও বিসিআই-এর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে নির্দেশ আংশিক সংশোধন করে জানানো হয়, অধিকাংশ পড়ুয়া কোনও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁদের এনরোলমেন্টে বাধা দেওয়া হবে না। তদন্ত অবশ্য চলবে।
এরপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মনন কুমার মিশ্র এক্স-এ জানিয়ে দেন, ২০২৬ ব্যাচের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সিনিয়র আইনজীবী, বার সদস্য, আইন পড়ুয়া এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করেই বিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তে পড়ুয়াদের কোনও অনিয়ম বা আন্দোলনে ভূমিকা ছিল না বলেও তিনি জানান।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মনন কুমার মিশ্র বলেন, ছাত্রদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বুঝতে পেরে সিদ্ধান্তটি দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, বিসিআই-এর কাউন্সিল ওই বিতর্কিত নির্দেশ অনুমোদন করেনি।
ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র অভিজিৎ দীপকে এবং সৌরভ দাসের উদ্দেশে মিশ্র বলেন, ছাত্রদের স্বার্থ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোথাও কোনও ঘাটতি হয়ে থাকলে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে তাঁদের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, তরুণ ও আইন পড়ুয়াদের স্বার্থ রক্ষা করাই বিসিআই-এর মূল উদ্দেশ্য। পড়ুয়াদের নিজেদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে, তবে তা সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা বজায় রেখেই হওয়া উচিত।
এদিকে বিতর্কের পাশাপাশি বিসিআই-এর আর্থিক ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস বিসিআই-এর সরকারি অডিটেড তথ্যের উল্লেখ করে দাবি করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম ও বৈঠকের জন্য প্রায় ১৪.২২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০১২ সাল থেকে মনন কুমার মিশ্র এই পদে রয়েছেন—এই দীর্ঘ সময়ে তরুণ আইনজীবী ও দেশের আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির কল্যাণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সৌরভ দাস মনন মিশ্রের পদত্যাগের দাবিও তোলেন। একই সঙ্গে নালসারের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারকে তিনি ‘যুবসমাজের আরও একটি বড় জয়’ বলে মন্তব্য করেন।
বিসিআই-এর ১৪ কোটি টাকার বেশি খরচের অভিযোগ প্রসঙ্গে মিশ্র বলেন, এই নির্দিষ্ট অঙ্ক সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিসিআই সেমিনার ও অন্যান্য কর্মসূচি আয়োজন করে বলেও তিনি জানান। তবে কোথায় কত টাকা খরচ হয়েছে, তা নিয়ে যদি কোনও প্রশ্ন থাকে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।
শেষ পর্যন্ত নালসারের ২০২৬ ব্যাচের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে সমস্ত ব্যবস্থা প্রত্যাহার হওয়ায় আপাতত বিতর্কের অবসান ঘটেছে। তবে বিসিআই-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, আর্থিক ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ককরোচ জনতা পার্টির আক্রমণ অব্যাহত থাকবে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।