‘আমরা সবাই এক!’ ১৫০০ ফুট দীর্ঘ জাতীয় পতাকা হাতে সীমান্ত থেকে সম্প্রীতির বড় বার্তা, নতুন ইতিহাস বসিরহাটে
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 8 h ago
‘আমরা সবাই এক!’ ১৫০০ ফুট দীর্ঘ জাতীয় পতাকা হাতে সীমান্ত থেকে সম্প্রীতির বড় বার্তা, নতুন ইতিহাস বসিরহাটে
তরুণ নন্দী / কলকাতা
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বসিরহাট যেন সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখাল। সমস্ত ভেদাভেদ সরিয়ে রেখে একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ১৫০০ ফুট দীর্ঘ বিরাট মাপের জাতীয় পতাকা তুলে ধরে বর্ণাঢ্য 'তিরঙ্গা যাত্রা'-য় পা মেলালেন হিন্দু, মুসলিম-সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ। ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে বাংলার সীমান্ত এলাকায় সম্প্রীতির এমন অনন্য দৃশ্য মন কেড়েছে সকলের।
বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগরের তেতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মালঙ্গপাড়া হাইস্কুল পর্যন্ত এই জাতীয় পতাকা নিয়ে বিশাল পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির উদ্যোগে এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক রিপন বিশ্বাসের নেতৃত্বে এই 'তিরঙ্গা যাত্রা' কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়।
১৫০০ ফুট লম্বা জাতীয় পতাকার এক এক অংশ হাতে ধরে শত শত মানুষ রাজপথ ধরে এগিয়ে চলার দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি হতেই এক অপূর্ব জাতীয়তাবাদী আবহ যেন তৈরি হয়ে গেল। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি বিকাশ ঘোষ-সহ স্বরূপনগরের স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব, কর্মী ও সমর্থক সহ এলাকার অগনিত বাসিন্দারা।
১৫০০ ফুট দীর্ঘ জাতীয় পতাকা হাতে সীমান্ত থেকে সম্প্রীতির বড় বার্তা
তবে দলীয় কর্মসূচির গণ্ডি ছাড়িয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এই পদযাত্রা কার্যত গণ-উৎসবে রূপ নিয়ে নেয়। ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় ভুলে সব ধর্মের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল এই তেরঙ্গা যাত্রার মূল আকর্ষণ। ভারত মাতা কী জয় এবং বন্দে মাতরম ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল সীমান্তবর্তী এই এলাকা। প্রত্যেকের মধ্যেই দেখা গেল দেশপ্রেমের অনুভূতি।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনাকে উদ্ধুদ্ধ করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিভেদের রাজনীতি বা সামাজিক দূরত্বের বিপরীতে দাঁড়িয়ে, জাতীয় পতাকার তলে সবার একত্রিত হওয়া প্রমাণ করে যে দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক ও অভিন্ন।
১৫০০ ফুট দীর্ঘ জাতীয় পতাকা হাতে সীমান্ত থেকে সম্প্রীতির বড় বার্তা
সীমান্ত এলাকায় বসবাস করেও দীর্ঘতম তিরঙ্গা নিয়ে হাঁটার এই অভিনব উদ্যোগ যেন স্থানীয় মানুষদের কাছে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছিল। যা পা মেলালেন না তারাও রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে দেখে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই বলছেন, সরূপনগরের মানুষ দেখাল পতাকার রঙের চেয়েও বড় তাদের ভেতরের সম্প্রীতি আর দেশমাতৃকার প্রতি গভীর ভালোবাসা।