অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেক জয় করে ইতিহাস গড়লেন অসমের বরাক উপত্যকার হিমাদ্রি সিংহ
শতানন্দ ভট্টাচার্য
৫,৪১৬ মিটার উচ্চতার অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেক জয় করলেন অসমের বরাক উপত্যকার হিমাদ্রি সিংহ। সম্প্রতি অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেক জয় করে বরাকের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করলেন তিনি। বিশ্বখ্যাত থোরং লা পাস অতিক্রম করে বরাক উপত্যকার প্রথম অভিযাত্রী হিসেবে নজির গড়লেন তিনি।
অসাধারণ অধ্যবসায় ও অদম্য মানসিক শক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নেপালের বিশ্বখ্যাত অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেক সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে হাইলাকান্দির এই যুবক। অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেক সম্পন্ন করার বিরল সম্মান অর্জনে সমগ্র উপত্যকা গর্বিত। হাইলাকান্দি জেলার লালার আমালার পুর্বকিত্তারবন্দ হাইস্কুলের শিক্ষক এবং সঙ্গীতজগতের সুপরিচিত মুখ 'রুপম' অর্থাৎ হিমাদ্রি সিংহ বর্তমানে নেপালে অবস্থান করছেন।
সেখান থেকে তিনি জানান, গত ২ জুন আগরতলার বাসিন্দা তাঁর বন্ধু অনির্বাণ দেবের সঙ্গে নেপালে পৌঁছে পরদিন থেকেই শুরু করেন বহু প্রতীক্ষিত এই অভিযান। হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উচ্চতাজনিত নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে টানা সাত দিনের অভিযানের পর ৯ জুন তাঁরা সফলভাবে ট্রেক সম্পন্ন করেন।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং চ্যালেঞ্জিং ট্রেকিং রুট হিসেবে পরিচিত অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেক। হিমালয়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই পথের সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,৪১৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত থোরং লা পাস অতিক্রম করা। অক্সিজেনের স্বল্পতা, হিমশীতল আবহাওয়া এবং দুর্গম পথ সত্ত্বেও রূপম ও তাঁর সহযাত্রী সফলভাবে সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেন।
রূপম বলেন, “জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা এটি। প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল নতুন চ্যালেঞ্জে ভরা, কিন্তু প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য সেই কষ্টকে অনেকটাই ভুলিয়ে দিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং দৃঢ় মনোবলের কারণেই আমরা সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।”
হিমাদ্রি সিংহের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে হাইলাকান্দি তথা সমগ্র বরাক উপত্যকায় আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকতা, সঙ্গীতচর্চা এবং অভিযাত্রার প্রতি তাঁর নিবেদন ইতোমধ্যেই তরুণ সমাজের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
তাঁর এই অর্জন ভবিষ্যতে বরাক উপত্যকার আরও অনেক যুবক-যুবতীকে পর্বতারোহণ, ট্রেকিং ও অন্যান্য অ্যাডভেঞ্চারমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উৎসাহ জোগাবে বলেই মনে করছেন শুভানুধ্যায়ীরা।