মাত্র ১১ বছরেই বিশ্বরেকর্ড! কান পেতেই চিনে ফেলে সুরের রহস্য, মধ্যমগ্রামের যশমিতার নজির

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 13 h ago
মাত্র ১১ বছরেই বিশ্বরেকর্ড! কান পেতেই চিনে ফেলে সুরের রহস্য, মধ্যমগ্রামের যশমিতার নজির
মাত্র ১১ বছরেই বিশ্বরেকর্ড! কান পেতেই চিনে ফেলে সুরের রহস্য, মধ্যমগ্রামের যশমিতার নজির
 

দেবকিশোর চক্রবর্তী

বয়স মাত্র ১১। যে বয়সে অনেক শিশুর কাছে সঙ্গীত মানে শুধুই গান শোনা কিংবা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে খেলাচ্ছলে সময় কাটানো, সেই বয়সেই সুরের সূক্ষ্মতম পার্থক্য চিনে নিয়ে নজির গড়ল মধ্যমগ্রামের খুদে প্রতিভা যশমিতা দত্ত। মাত্র এক মিনিটে ২০টি মিউজিক্যাল কর্ড শনাক্ত করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে সে। সুরের প্রতি ভালোবাসা, অসাধারণ শ্রবণক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের নিরলস অনুশীলন—এই তিনের মেলবন্ধনেই এসেছে এই সাফল্য।
 
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের যশমিতার বাড়িতে ঢুকলেই যেন মনে হয়, এটি কোনও সাধারণ ঘর নয়—ছোট্ট এক মিউজিক স্টুডিও। কোথাও গিটার, কোথাও হারমোনিয়াম, আবার কোথাও কিবোর্ড। ঘরের দেওয়ালে সাজানো একাধিক সার্টিফিকেট ও পুরস্কার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে ঘরটি তার সঙ্গীতচর্চার সাক্ষী হয়ে উঠেছে, সেখানেই প্রতিদিন তৈরি হয়েছে নতুন নতুন স্বপ্ন।
 
সম্প্রতি মাত্র ৬০ সেকেন্ডের পরীক্ষায় ২০টি মিউজিক্যাল কর্ড শনাক্ত করে যশমিতা তৈরি করেছে নতুন নজির। কোনও কর্ড একবার বাজানো হলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার স্বর চিনে ফেলতে পারে সে। এফ শার্প, জি মাইনর কিংবা অন্য কোনও কর্ড—শুধু কান দিয়ে শুনেই তার পার্থক্য বুঝে নেওয়ার এই ক্ষমতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
 
তবে এই সাফল্যের পথ একদিনে তৈরি হয়নি। ২০২৫ সালেই মাত্র ২ মিনিট ২ সেকেন্ডে ৩৯টি মিউজিক্যাল নোট এবং ২০টি কর্ড শনাক্ত করে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নিজের নাম তুলেছিল যশমিতা। সেই সাফল্যের পর থেমে থাকেনি সে। বরং আরও কঠিন পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে। আর এবার এক মিনিটে ২০টি মিউজিক্যাল কর্ড শনাক্ত করে পৌঁছে গেল আরও বড় মঞ্চে।
 
সঙ্গীত তার কাছে শুধুই একটি শখ নয়, ভালোবাসার জায়গা। গিটার, কিবোর্ড, হারমোনিয়াম-সহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারে যশমিতা। বিভিন্ন রিয়্যালিটি শোতেও অংশ নিয়েছে সে। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে নানা ধরনের গান শুনতে শুনতেই সুরের প্রতি তৈরি হয় গভীর টান। সেই আগ্রহ ধীরে ধীরে পরিণত হয় নিয়মিত সঙ্গীতচর্চায়। আর প্রতিদিনের অনুশীলনই শান দিয়েছে তার শ্রবণশক্তিকে।
 
নিজের এই সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বসিত যশমিতা। তার কথায়, গান-বাজনা তার ভীষণ ভালো লাগে। এই জায়গায় পৌঁছতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। ‘‘আজ আমি খুব খুশি। এটার জন্য আমাকে অনেক হার্ডওয়ার্ক করতে হয়েছে। প্রচুর খেটেছি,’’—বলেছে সে।মেয়ের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত পরিবার। খুশি তার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সহপাঠীরাও। বারাসতের অ্যাডামাস ওয়ার্ল্ড স্কুলের ছাত্রী যশমিতা এখন তাকিয়ে আরও বড় স্বপ্নের দিকে। ভবিষ্যতে সঙ্গীতের জগতে আরও বড় জায়গা তৈরি করার ইচ্ছা তার।
 
মাত্র এক মিনিটে ২০টি কর্ড শনাক্ত করার এই রেকর্ড তাই শুধুমাত্র একটি সংখ্যার গল্প নয়। এটি ১১ বছরের এক কিশোরীর প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং সুরের প্রতি গভীর ভালোবাসার গল্প। মধ্যমগ্রামের ঘর থেকে যে সুরের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই সুরই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বরেকর্ডের মঞ্চে।