ট্রাম্পের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত, শুক্রবার খুলবে হরমুজ প্রণালী

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 4 d ago
ট্রাম্পের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত, শুক্রবার খুলবে হরমুজ প্রণালী
ট্রাম্পের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত, শুক্রবার খুলবে হরমুজ প্রণালী

ওয়াশিংটন: 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দীর্ঘ ১০৭ দিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী শুক্রবার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

রবিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে সরাসরি বৈঠকে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ওপর থাকা সব বাধা তুলে নেওয়া হবে।ট্রাম্প লিখেছেন,"ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।"

তিনি আরও বলেন,"আমি হরমুজ প্রণালীকে টোলমুক্তভাবে পুনরায় চালু করার অনুমোদন দিচ্ছি এবং একইসঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের সব জাহাজ, ইঞ্জিন চালু করুন। আবার তেল প্রবাহ শুরু হোক!"

তবে পরবর্তী এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুক্রবার থেকেই হরমুজ প্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তি নিয়ে আলোচনা করবে দুই দেশ।সূত্রের দাবি, এই শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান ও কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এর আগে ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আলোচনার স্বার্থে বাড়ানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ।বর্তমানে খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেলেও, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে দেখা দেননি।

এদিকে, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে উত্তপ্ত আলোচনা করেন এবং সব পক্ষকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই চুক্তি বাস্তবে কার্যকর হয়, তবে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও এক যুগান্তকারী মোড় হতে পারে।