চীন ও মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নজরে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও আঞ্চলিক অর্থনীতি

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 h ago
চীন ও মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নজরে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও আঞ্চলিক অর্থনীতি
চীন ও মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নজরে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও আঞ্চলিক অর্থনীতি
 
ঢাকা: 

দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ জুন মালয়েশিয়া এবং ২২ থেকে ২৬ জুন চীন সফরের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অগ্রাধিকার স্পষ্ট হতে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ সম্প্রসারণ।

দুই দিনের মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বৃহত্তম বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এমএমসি পোর্টস, এয়ারএশিয়া এবং রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোনাসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বন্দর উন্নয়ন, বিমান পরিবহন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্প বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

২২ জুন চীনে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বর্জে ব্রেন্ডের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় জলবায়ু নেতৃত্ব’ শীর্ষক অধিবেশনেও তার অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠককে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, দুই নেতার বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে।

সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) শিল্পে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে উৎপাদনভিত্তিক শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে চীনা কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।বেইজিংয়ে একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন নিয়েও প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

সফরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পও আলোচনায় আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ,তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন,যমুনা নদীর ওপর নতুন সেতু,চীনা অর্থায়নে প্রায় ৪০ বিলিয়ন টাকার অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা।

এছাড়া চীনা মুদ্রায় বন্ড ইস্যু, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা চলছে। গত বছর কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য হয়েছিল। এবার সেই উদ্যোগ নতুন গতি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর শুধু প্রথাগত কূটনৈতিক সফর নয়; বরং এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এই সফর একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।