বাংলাদেশে দুই দিনের ব্যবধানে ফের মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, মধুখালীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ; দ্রুত তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
ফরিদপুর, বাংলাদেশ:
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। বুধবার গভীর রাতে মেঘচামী ইউনিয়নের শতবর্ষী বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে শিবমূর্তির মাথা ভেঙে দেয়। এর আগে সোমবার রাতেও একই এলাকার বামুন্দী বাজারের একটি কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয়বারের মতো হামলার ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরের পূজারী বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বৃহস্পতিবার ভোরে মন্দিরে এসে ভাঙা প্রতিমা দেখতে পান। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও মন্দির কমিটির সদস্যরা সেখানে জড়ো হন।
মন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, শতবর্ষের ঐতিহ্য বহনকারী এই মন্দিরে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সোমবারের ঘটনার পর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দ্বিতীয় হামলাটি এড়ানো সম্ভব হতো। কিছু বাসিন্দা দাবি করেন, প্রথম ঘটনার পর পুলিশকে জানানো হলেও ঘটনাটি বেশি প্রচার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুকদেব রায় এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো ঘটনা গোপন করার প্রশ্নই ওঠে না এবং উভয় ঘটনার ক্ষেত্রেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলছেন, পরপর দুটি ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুটি ঘটনার পেছনে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও বিশিষ্টজনেরা শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা শুধু একটি সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপরও আঘাত। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।