দেশভাগের বেদনা থেকে রবিশঙ্করের শিষ্যত্বে অসমের সেতারশিল্পী প্রদ্যুম্ন দাসের সুরযাত্রা

Story by  Aparna Das | Posted by  Aparna Das • 12 h ago
সেতারশিল্পী প্রদ্যুম্ন দাস
সেতারশিল্পী প্রদ্যুম্ন দাস
 
অপর্ণা দাস / গুয়াহাটি

সুরেরও স্মৃতি থাকে। সময় পেরিয়ে গেলেও কিছু মানুষের স্পর্শ তারের কম্পনের মতো বাতাসে ভেসে থাকে।  অসমের প্রখ্যাত সেতারশিল্পী প্রদ্যুম্ন দাস ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর পরিচয় ছিল না প্রচারের আলোয়, ছিল সুরের গভীরে।  সামাজিক মাধ্যমের যুগে তিনি হয়তো বহুল প্রচারিত নাম ছিলেন না, কিন্তু ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি তাঁর নিবেদন, তাঁর দীর্ঘ সাধনা এবং তাঁর গড়ে তোলা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজও তাঁর পরিচয় বহন করে চলেছে।
 
দেশবিভাজনের অভিঘাতে শৈশবেই ভিটেমাটি ছেড়ে অসমে পাড়ি দিতে হয়েছিল তাঁকে। সেই বাস্তুচ্যুতির বেদনা ও সংগ্রামের মধ্যেই একদিন তাঁর জীবনে আসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, নগাঁওয়ে মুসলিম সেতারশিক্ষক মতিউর রহমানের শিষ্যত্ব গ্রহণ। যদিও ছোটবেলা থেকেই গান ও সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ ছিল। তবে নগাঁওয়ে সেতারের প্রাথমিক শিক্ষার সেই অধ্যায়ই তাঁর শিল্পীজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয়ে ওঠে। ধর্ম ও পরিচয়ের সীমারেখা অতিক্রম করে গড়ে ওঠা সেই গুরু-শিষ্য সম্পর্কই তাঁকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গভীরে প্রবেশের পথ দেখায়। পরবর্তীকালে সেই পথ তাঁকে পৌঁছে দেয় পণ্ডিত রবিশঙ্করের সান্নিধ্যে, আর সেখান থেকে ফিরে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন সঙ্গীতশিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে।
 

গত ৭ জুন, ২০২৬-এ তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে থেমে গেছে একটি জীবন। কিন্তু থেমে যায়নি সেই সুরের ধারা, যা তিনি রেখে গেছেন তাঁর শিষ্যদের মধ্যে, তাঁর শিক্ষার মাধ্যমে এবং তাঁর সমৃদ্ধ উত্তরাধিকারের ভেতর। প্রদ্যুম্ন দাসের জীবন ও সঙ্গীতসাধনার অজানা অধ্যায়গুলো স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর কন্যা দীপশিখা দাস যেন খুলে দেন এক বিস্মৃত সময়ের দরজা। গুয়াহাটির 'সন্দিকৈ কন্যা মহাবিদ্যালয়' (Handique Girls' College)-এর বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা দীপশিখা দাস ‘আওয়াজ দ্য ভয়েস’-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় তুলে ধরেন তাঁর পিতার সংগ্রাম, সাধনা এবং সঙ্গীতের প্রতি আজীবন নিবেদনের নানা স্মৃতি।
 
প্রদ্যুম্ন দাসের জন্ম তৎকালীন ভারতবর্ষের সিলেট জেলার কুরুয়া পরগণার শ্বাসরাম গ্রামে। বর্তমান বাংলাদেশের হাওরবেষ্টিত সেই অঞ্চল ছিল তাঁর শৈশবের পৃথিবী। চারপাশে জল, বিস্তীর্ণ ক্ষেত, পুকুর আর নৌকার জীবন। বর্ষাকালে সেই ভূখণ্ড যেন এক অন্তহীন জলরাজ্যে পরিণত হতো। ছোট্ট প্রদ্যুম্ন সাঁতার কাটতেন, মাছ ধরতেন, ক্ষেতের কাজে সাহায্য করতেন, নৌকা চালাতেন। প্রকৃতির সেই মুক্ত পরিবেশ তাঁর মনকে দিয়েছিল এক ধরনের সংবেদনশীলতা, যা পরবর্তীকালে তাঁর শিল্পীসত্তার ভিত্তি হয়ে ওঠে।
 
সেতারশিল্পী প্রদ্যুম্ন দাস
 
কিন্তু ইতিহাসের নির্মমতা তাঁর শৈশবকে শান্ত থাকতে দেয়নি। দেশভাগের অভিঘাতে হাজার হাজার মানুষের মতো তাঁর পরিবারও বাস্তুচ্যুত হয়। দেশভাগের পরবর্তী অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ১৯৪৯ সালে সিলেটের বহু হিন্দু পরিবারের মতো প্রদ্যুম্ন দাসের পরিবারও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতে চলে আসে। প্রথমে আশ্রয় মেলে দিদির বাড়িতে। তাঁর দিদির স্বামী মহেন্দ্র দাস ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং নগাঁওয়ের এক সুপরিচিত ব্যক্তি। পরে ১৯৫২ সালে পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেখানে এসে জড়ো হন। এক নতুন জীবন শুরু হয়, যেখানে স্বপ্নের চেয়ে সংগ্রামই ছিল বড়।
 
সংসারের অভাব তাঁকে অল্প বয়সেই দায়িত্বশীল করে তোলে। পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার জন্য কাজও করতে হয়েছে। সুন্দর হাতের লেখার জন্য তিনি বাসের নম্বরপ্লেট পর্যন্ত লিখেছেন। কিন্তু অভাব তাঁর স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। দীপশিখা দাস স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বাবা সবসময় বলতেন, জীবনে যত বাধাই আসুক, সাধনা বন্ধ করা যাবে না। সঙ্গীতকে তিনি সেইভাবেই দেখতেন।”
 
সঙ্গীতের বীজ অবশ্য তাঁর মধ্যে রোপিত হয়েছিল আরও আগে। মাতুলালয়ে ছিল গানের পরিবেশ। কীর্তন, হারমোনিয়াম, সেতার, সব মিলিয়ে সুর ছিল তাঁর শৈশবের সঙ্গী। নগাঁওয়ে এসে সেই সুরের জগত আরও বিস্তৃত হয়। তাঁদের বাড়ির কাছেই ছিল ডঃ মুখার্জির বাড়ি, যেখানে প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় বসত গানের আসর। তারিক উদ্দিন আহমেদ, বিবেকানন্দ ভট্টাচার্য, বিষ্ণুপদ বিশ্বাস, সায়েদ আলীর মতো সঙ্গীতপ্রেমীরা সেখানে নিয়মিত আসতেন। খ্যাতনামা শিল্পী পারভিন সুলতানার পিতা ইক্রামুল মজিদও সেই আড্ডার পরিচিত মুখ ছিলেন। সঙ্গীতমহলে ‘ক্যাপ্টেন দা’ নামে পরিচিত তিনি প্রায়ই তরুণ প্রদ্যুম্ন দাসকে পারভিন সুলতানার তানপুরা সুর করে দেওয়ার জন্য ডাকতেন। সেই পরিবেশেই তাঁর সঙ্গীতবোধ আরও পরিণত হতে শুরু করে।
 
পণ্ডিত রবিশঙ্কর প্রদ্যুম্ন দাস ও তাঁর অন্যান্য শিষ্যদের সঙ্গে
 
কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে যখন তিনি মুসলিম সেতারগুরু মতিউর রহমানের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ধর্ম, পরিচয় কিংবা সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে গড়ে ওঠা সেই সম্পর্ক তাঁর জীবনের গতিপথই বদলে দেয়। চার বছর ধরে গুরুসান্নিধ্যে সেতার শেখার পর ১৯৫৪ সালে সর্বঅসম সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। তবুও তাঁর মনে হয়েছিল, শেখার পথ এখনও অনেক বাকি।
 
উচ্চতর শিক্ষার সন্ধানে তিনি দু’বার কলকাতায় গিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে সেখানে দীর্ঘদিন থাকা সম্ভব হয়নি। তাঁর অদম্য আগ্রহ দেখে কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সেই সহায়তাই তাঁকে দিল্লির পথে যাত্রা করার সাহস জোগায়। দিল্লিতে পৌঁছে প্রথমদিকে থাকার জায়গারও ব্যবস্থা ছিল না। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সেতার শিক্ষার স্বপ্ন আঁকড়ে ছিলেন।
 
দিল্লিতে তাঁর পরিচয় হয় বিশিষ্ট তবলাবাদক পণ্ডিত চতুরলালের সঙ্গে। শুধু সেতার নয়, সঙ্গীতের লয়, তাল এবং রাগসংগীতের সূক্ষ্ম নানা দিক সম্পর্কেও তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেন। চতুরলালের পরামর্শেই তিনি প্রথমে উমাশঙ্কর মিশ্রের কাছে চার বছর সেতারের প্রশিক্ষণ নেন। সেখানেই তিনি উপলব্ধি করেন যে এতদিন তাঁর বাজনার পদ্ধতিতে অনেক ঘাটতি ছিল। কঠোর অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে শুরু করেন।
 
পণ্ডিত রবিশঙ্করের থেকে প্রাপ্ত প্রদ্যুম্ম দাসের সার্টিফিকেটের একটি ছবি
 
অবশেষে এক বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি পৌঁছে যান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সর্বোচ্চ শিখরে, পণ্ডিত রবিশঙ্করের সান্নিধ্যে। তখন তাঁর বয়স প্রায় ২৬ বছর। সেই সময় পণ্ডিত রবিশঙ্করের আন্তর্জাতিক খ্যাতি শীর্ষে; ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার এক স্বর্ণযুগের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি। এমন এক কিংবদন্তির গৃহে থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর সেতারের কঠোর সাধনা করেন প্রদ্যুম্ন দাস। গুরু-শিষ্য পরম্পরার সেই শিক্ষা তাঁর শিল্পীসত্তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। সেতারবাদনে তাঁর নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে পণ্ডিত রবিশঙ্কর তাঁকে একটি প্রশংসাপত্রও প্রদান করেছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই মূল্যবান স্বীকৃতিকে তিনি ফ্রেমে বাঁধিয়ে সযত্নে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন।
 
পণ্ডিত রবিশঙ্করের সান্নিধ্যে কাটানো দিনগুলোর একটি স্মৃতি তুলে ধরে দীপশিখা দাস বলেন, “ বাবা আমাকে বলেছিলেন, একবার গুরুজি কিছু সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার আগে বাবার উপর ছাত্রছাত্রীদের শেখানোর দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন, বাবা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তখন পণ্ডিত রবিশঙ্কর তাঁকে বলেছিলেন, ‘ছেলে, তুমি খুব ভালো শিক্ষক হতে পারবে।’” পরবর্তীকালে উত্তর-পূর্ব ভারতের অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সেতারের পাঠ দিয়ে প্রদ্যুম্ন দাস যেন তাঁর গুরুর সেই বিশ্বাসকেই সত্য প্রমাণ করেছিলেন। দীপশিখা দাসের কথায়, “পণ্ডিত রবিশঙ্কর বাবাকে খুব স্নেহ করতেন। তিনি চাইতেন বাবা তাঁর সঙ্গে দেশ-বিদেশে ঘুরে সেতার পরিবেশন করুন। কিন্তু পরিবারকে ছেড়ে দূরে থাকার মানুষ তিনি ছিলেন না।”
 
প্রদ্যুম্ন দাস প্রাপ্ত একটি পুরস্কারের ছবি
 
গুরু-শিষ্য পরম্পরার দীর্ঘ সাধনা শেষে প্রদ্যুম্ন দাস অসমে ফিরে আসেন এবং প্রথমে শিলংয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বীজ বপনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন, সেতারের পাঠ দিতে শুরু করেন আগ্রহী শিক্ষার্থীদের। সেই সময় তাঁর এক ছাত্রী বন্দনা দাসের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। কিন্তু জীবনের সুখের সেই অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কন্যাসন্তানের জন্মের সময়ই স্ত্রীকে হারানোর মর্মান্তিক আঘাত নেমে আসে তাঁর জীবনে। এই গভীর ব্যক্তিগত শোক তাঁকে ভেঙে দিতে পারেনি; বরং তিনি নিজেকে আরও বেশি করে সঙ্গীত ও কর্মজীবনের মধ্যে নিমগ্ন করে তোলেন। পরবর্তীকালে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওর সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিলচরে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় সাত-আট বছর কর্মরত থাকার পর গুয়াহাটিতে বদলি হয়ে আসেন।
 
শিলং, শিলচর, গুয়াহাটি, যেখানেই থেকেছেন, সেখানেই সেতারের আলো ছড়িয়েছেন। অল ইন্ডিয়া রেডিওর চাকরির পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। দীপশিখা দাসের ভাষায়, “আমার বাবা যেখানে দীর্ঘদিন থাকতেন, সেখানেই সেতার শেখানো শুরু করতেন। তাঁর কাছে সঙ্গীত ছিল না খ্যাতির পথ, ছিল আত্মার পরিশুদ্ধির উপায়। তিনি শুধু সেতার শেখাননি, শিখিয়েছেন সঙ্গীতকে শ্রদ্ধা করতে।”
 
১৯৯৬ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর যেন আরও বেশি করে নিজেকে সমর্পণ করেন শিক্ষাদানে। গুয়াহাটিতে বসে তিনি একের পর এক ছাত্রছাত্রীকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পথে এগিয়ে দিয়েছেন। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা বহু শিল্পী আজও সেই উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন। জীবনের শেষ পর্বে, গত প্রায় ১৫–১৬ বছর ধরে তিনি শিল্পী পেনশনও পেতেন, যা তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতসাধনার প্রতি এক ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবেই ধরা যায়।
 
প্রদ্যুম্ম দাস তাঁর কন্যা দীপশিখা দাসের সঙ্গে
 
জীবনের শেষ কয়েক মাস বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রদ্যুম্ন দাস। অবশেষে ২০২৬ সালের ৭ জুন থেমে যায় তাঁর জীবনসঙ্গীতের বাহ্যিক যাত্রা। কিন্তু কিছু মানুষের প্রস্থান কেবল একটি জীবনের সমাপ্তি নয়; তা হয়ে ওঠে একটি যুগের অবসান। তৎকালীন গ্রামবাংলার এক কিশোর থেকে দেশভাগের বাস্তুচ্যুত সন্তান, সেখান থেকে নিরলস সাধনা আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিষ্যত্ব লাভ, সেতারশিল্পী প্রদ্যুম্ন দাসের জীবন ছিল অধ্যবসায়, আত্মনিবেদন এবং শিল্পপ্রেমের এক বিরল দলিল।
 
তাঁর সুর আজ আর নতুন করে মঞ্চে ধ্বনিত হবে না, কিন্তু তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর গড়ে তোলা অসংখ্য শিষ্যের আঙুলে, তাঁদের বাজনায় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতচর্চার ধারায়। কারণ সত্যিকারের শিল্পীরা কখনও সম্পূর্ণ বিদায় নেন না; তাঁরা রয়ে যান তাঁদের সৃষ্টির ভেতর, মানুষের স্মৃতিতে এবং সংস্কৃতির দীর্ঘ উত্তরাধিকারে। সেতারের নীরব সাধক প্রদ্যুম্ন দাসও তেমনই এক নাম, যাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে। এই মহান শিল্পীর প্রতি ‘আওয়াজ দ্য ভয়েস’-এর বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।