লক্ষ্য জর্ডান ও কাতারের মার্কিন ঘাঁটি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 12 h ago
লক্ষ্য জর্ডান ও কাতারের মার্কিন ঘাঁটি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র
লক্ষ্য জর্ডান ও কাতারের মার্কিন ঘাঁটি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র
 
যুক্তরাষ্ট্র:

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে। তবে জর্ডানের পক্ষ থেকে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এর আগে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

একই সময়ে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে পারে। কাতার, জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় এসব দেশ এখন বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাও ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বের সামুদ্রিক তেল পরিবহনের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানো হবে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ, এশিয়া ও বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।