'ওরা শরণার্থী নন, ধর্ম ও মাতৃভূমির যোদ্ধা'— দেশভাগের স্মৃতি উসকে বড় বার্তা মোহন ভাগবতের

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
'ওরা শরণার্থী নন, ধর্ম ও মাতৃভূমির যোদ্ধা'— দেশভাগের স্মৃতি উসকে বড় বার্তা মোহন ভাগবতের
'ওরা শরণার্থী নন, ধর্ম ও মাতৃভূমির যোদ্ধা'— দেশভাগের স্মৃতি উসকে বড় বার্তা মোহন ভাগবতের

নাগপুর:


দেশভাগের প্রায় আট দশক পর ফের ১৯৪৭-এর বিভাজন নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর দাবি, দেশভাগের পর পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা মানুষদের 'শরণার্থী' বলা ঠিক নয়, তাঁরা ছিলেন ধর্ম ও মাতৃভূমির জন্য লড়াই করা 'যোদ্ধা'। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নাগপুরে সিন্ধু এডুকেশন সোসাইটির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, দেশভাগের সময় অসংখ্য হিন্দু ও শিখ পরিবার নিজেদের বাড়ি, ব্যবসা, সম্পত্তি এবং বহু বছরের জীবন ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত ছিল শুধুমাত্র নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং এমন একটি দেশে বসবাস করার জন্য, যেখানে তাঁরা ভয় ছাড়াই নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারবেন।ভাগবতের ভাষায়, "তাঁরা শরণার্থী ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন সংগ্রামের যোদ্ধা। তাঁরা অর্থ বা কর্মজীবন নয়, দেশ ও ধর্মকে বেছে নিয়েছিলেন।"

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ছিল বিশ্বের বৃহত্তম গণ-অভিবাসনের অন্যতম ঘটনা। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করতে বাধ্য হন এবং সাম্প্রদায়িক হিংসায় প্রায় ২ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। দেশভাগের ক্ষত আজও ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বহু পরিবারের স্মৃতিতে জীবন্ত।

আরএসএস প্রধান তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা নিয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, প্রকৃত শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষকদের আদর্শ, মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও নতুন প্রজন্ম গঠনে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন নাগরিক তৈরি করা, যারা সমাজকল্যাণে সক্রিয় ভূমিকা নেবে।

ভাগবতের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশভাগের ইতিহাস, উদ্বাস্তুদের অবদান এবং নাগরিক পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা চলছে। তাঁর বক্তব্য দেশভাগ-পরবর্তী উদ্বাস্তুদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামকে নতুনভাবে সামনে এনে দিয়েছে।