খামেনির শেষ বিদায়ে বিশ্বনেতাদের নজর তেহরানে, ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 9 h ago
খামেনির শেষ বিদায়ে বিশ্বনেতাদের নজর তেহরানে, ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে
খামেনির শেষ বিদায়ে বিশ্বনেতাদের নজর তেহরানে, ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে

 

তেহরান:

 
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তেহরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইরানের সরকার জানিয়েছে, ৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রনেতা, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল এবং ৯০টিরও বেশি দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ইরানের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী-আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, ৩ জুলাই বিদেশি রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিক ও ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে তেহরানে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে পৃথক ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ প্রায় সব আঞ্চলিক দেশই প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারত সরকার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে পরিণত হতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠান ঘিরে তেহরান, কোম ও মাশহাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি প্রধান সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান কভার করতে হাজার হাজার দেশীয় সাংবাদিকের পাশাপাশি ৩০০ জনেরও বেশি বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে নিবন্ধন করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য বিশেষ মিডিয়া সেন্টারও চালু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইসলামী রীতিতে দ্রুত দাফন সম্ভব না হওয়ায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।