ভারত-জাপান সম্পর্কের নতুন দিগন্ত, দিল্লিতে মোদি-তাকাইচির বৈঠকে জোর প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতায়
নয়াদিল্লি:
ভারত-জাপান বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-র ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। এটি জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির প্রথম ভারত সফর এবং ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতের মাটিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের 'স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ' আরও মজবুত হবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।
এবারের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) শক্তিশালীকরণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে এলএনজি (LNG) সহযোগিতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে ভারত-জাপান সম্পর্ক শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আজ দুই দেশ উচ্চ প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, সবুজ জ্বালানি, উৎপাদন শিল্প এবং নিরাপদ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। জাপানের বিনিয়োগে ভারতে মেট্রো রেল, শিল্প করিডর, দ্রুতগতির রেল প্রকল্প এবং উৎপাদন খাতে একাধিক বড় প্রকল্প এগিয়ে চলেছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হলো মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলা। এই সফরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন নিয়েও দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে না, বরং এশিয়ার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় ভারত-জাপান অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দেবে।