রিয়াদ/ওয়াশিংটন:
বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে ঐতিহাসিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণের পথ খুলে গেল, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও জ্বালানি সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ এবং একটি ‘দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর জানিয়েছে, এই চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহুমূল্যের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অ-প্রসারণ নীতিকেও শক্তিশালী করবে।
চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, প্রযুক্তি সরবরাহ, গবেষণা এবং বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নে অংশ নিতে পারবে। সৌদি আরবের 'ভিশন ২০৩০'-এর আওতায় তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎস গড়ে তোলার পরিকল্পনায় এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে চুক্তিটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কও শুরু হয়েছে। কারণ, সৌদি আরবকে ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হবে কি না এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কী ধরনের আন্তর্জাতিক নজরদারি থাকবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। এই বিষয়গুলো কংগ্রেসে পর্যালোচনারও মুখোমুখি হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে জানিয়েছেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়, তবেই এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এগোবে। তাঁর এই শর্তে চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।