ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফ গভর্নরশিপ-সহ একাধিক এলাকায় বিমান হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স।
বিশেষ করে ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কায় এ ধরনের বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরে সৌদি সিভিল ডিফেন্স ‘এক্স’-এ জানায়, মক্কায় তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা কেটে গিয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হায়োম’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েক বছরের মধ্যে সৌদি আরবের ওপর এটিই হুথিদের অন্যতম বড় হামলা। হামলায় সৌদির একাধিক তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ৭৩ জন আহত হন।
এর পাল্টা জবাবে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী ইয়েমেনের তাইজ শহরের কাছে একাধিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে, হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেও তারা একযোগে বহু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
পরপর হামলা ও পাল্টা হামলার জেরে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরগুলিকে ঘিরে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।