‘ইসলামপন্থী শক্তির উত্থান, পাকিস্তানের প্রভাবের সুযোগ’—বাংলাদেশ নিয়ে সতর্ক করলেন বীণা সিক্রি

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 18 h ago
‘ইসলামপন্থী শক্তির উত্থান, পাকিস্তানের প্রভাবের সুযোগ’—বাংলাদেশ নিয়ে সতর্ক করলেন বীণা সিক্রি
‘ইসলামপন্থী শক্তির উত্থান, পাকিস্তানের প্রভাবের সুযোগ’—বাংলাদেশ নিয়ে সতর্ক করলেন বীণা সিক্রি
 
নয়াদিল্লিঃ
 
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করলেন সে দেশে ভারতের প্রাক্তন হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে জামায়াতে ইসলামী ও পাকিস্তানের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান নেতৃত্ব পরিস্থিতিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ২০২৪ সালের ক্ষমতার পালাবদল, জামায়াতে ইসলামীর উত্থান, পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন সিক্রি।

২০২৪ সালের ঘটনাকে শুধুমাত্র ছাত্র আন্দোলন হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে সিক্রি দাবি করেন, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। তাঁর মতে, এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি করা এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সিক্রির বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে সিক্রি বলেন, ইসলামপন্থী শক্তি ও পাকিস্তানকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। এ কারণেই তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রাক্তন ভারতীয় কূটনীতিক। তাঁর আশঙ্কা, রাজনৈতিক পরিবর্তনের বর্তমান ধারায় সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন সিক্রি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ভুল সিদ্ধান্ত।

২০০৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বীণা সিক্রি এর আগেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ইসলামপন্থী শক্তির উত্থান নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানিয়েছেন। এবারের সাক্ষাৎকারে তাঁর মূল উদ্বেগ—বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থী শক্তির বাড়তি প্রভাব, পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।