অসমের হোজাই জেলার প্রথম মহিলা বিচারক হতে চলেছেন নীলবাগানের মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 17 h ago
মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর
মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর
 
বিপ্লব দেব / হোজাই

ইচ্ছা ও একাগ্রতা থাকলে কোনও লক্ষ্যই যে অসম্ভব নয়, তা ফের প্রমাণ করে দেখালেন এক কৃতী কন্যা। হোজাই জেলাকে গর্বিত করে অসম বিচারিক পরিষেবার পরীক্ষায় চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন করেছেন নীলবাগানের মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর। হোজাই জেলার ইতিহাসে প্রথম মহিলা বিচারক হিসেবে পরিগণিত হতে চলেছেন মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর।
 
অসম লোকসেবা আয়োগ আয়োজিত অসম বিচারিক পরিষেবা (AJS) পরীক্ষা–২০২৬-এর ফলাফলে মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। এই পরীক্ষায় তিনি গ্রেড–III বিচারিক পরিষেবায় নিয়োগের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সমগ্র রাজ্যের মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে মোহসিনা ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছেন।
 

মোহসিনার এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নয়, আজমল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছেও এটি বিশেষ গৌরবের বিষয়। কারণ ছাত্রী হিসেবে আজমল আইন মহাবিদ্যালয়ের সঙ্গে শুরু হওয়া তাঁর সম্পর্ক পরবর্তী সময়ে সহকারী অধ্যাপিকা হিসেবে পেশাগত জীবনে বিস্তৃত হয় এবং এখন বিচারিক পরিষেবায় প্রবেশের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ে পৌঁছেছে।
 
সংবাদমাধ্যমের সামনে মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর বলেন, “আজমল আইন মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই এটি আমার স্বপ্ন ছিল। আমি প্রথমেই মৌলানা বদরুদ্দিন আজমল সাহেব এবং সিরাজুদ্দিন আজমল সাহেবকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ তাঁরা আর্থিকভাবে দুর্বল এবং দুর্গম অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ভালো সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন। এরপর আমাদের শিক্ষাগুরুদের ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের জন্যই আমি এই পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছি।”
 
মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর ২০২৩ সালে আজমল আইন মহাবিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পূর্ণ করেন। এরপর তিনি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলএম অধ্যয়ন করেন এবং ২০২৫ সালে এলএলএম পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
 
শিক্ষাজীবনে এই কৃতিত্ব অর্জনের পর মোহসিনা শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমানে তিনি আজমল আইন মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
 
শিক্ষা ও শিক্ষকতার ক্ষেত্রে সাফল্যের পর মোহসিনার লক্ষ্য ছিল বিচারিক পরিষেবায় প্রবেশ করা। অসম বিচারিক পরিষেবা পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে তিনি সেই লক্ষ্য পূরণ করেন।
 
মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর ছাত্রীদের সঙ্গে
 
প্রথম শ্রেণির বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়া মোহসিনার কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। আইনশিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষায় কৃতিত্ব, এরপর অধ্যাপনা এবং অবশেষে বিচারিক পরিষেবায় প্রবেশ, এই ধারাবাহিকতা তাঁর কর্মজীবনের যাত্রাকে বিশেষ তাৎপর্য প্রদান করেছে।
 
মোহসিনার এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজমল পরিবার-সহ আজমল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিকারিক-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
 
এই সাফল্যকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে আজমল আইন মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে আজমল আইন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্করকে মহাবিদ্যালয়ে স্বাগত জানায়। প্রাক্তন ছাত্রী এবং বর্তমানে সহকারী অধ্যাপিকা হিসেবে কর্মরত মোহসিনা বিচারিক পরিষেবা পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনের পর নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে আসার এই মুহূর্তটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয় হয়ে ওঠে।
 
এরপর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মূল সংবর্ধনা সভা। মোহসিনাকে মহাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
 
মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্কর একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন
 
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আজমল ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. খুশরুল ইসলাম মোহসিনাকে অভিনন্দন জানান। তিনি মোহসিনার অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং মেধার প্রশংসা করে বলেন, তাঁর এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।
 
এদিকে আজমল ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি মৌলানা বদরুদ্দিন আজমল এবং সিরাজুদ্দিন আজমলও মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্করের এই গৌরবময় সাফল্যের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
 
নীলবাগানের কন্যা মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্করের এই সাফল্য হোজাইয়ের শিক্ষার্থী এবং যুব প্রজন্মের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে। বিশেষ করে আইনশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর যাত্রা একটি বাস্তব উদাহরণ, শিক্ষা থেকে শিক্ষকতা এবং শিক্ষকতা থেকে বিচারিক পরিষেবায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
 
মোহসিনা ইমতিয়াজ লস্করের কাহিনি তাই শুধু একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কাহিনি নয়; এটি নীলবাগান থেকে শুরু করে শিক্ষা, অধ্যাপনা এবং বিচারিক পরিষেবার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি সফল কর্মজীবনের কাহিনি।