রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ভারতের কড়া জবাব, ‘সন্ত্রাসের ফল ভুগতে হবে’

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 17 h ago
রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ভারতের কড়া জবাব, ‘সন্ত্রাসের ফল ভুগতে হবে’
রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ভারতের কড়া জবাব, ‘সন্ত্রাসের ফল ভুগতে হবে’
 
রাষ্ট্রপুঞ্জ: 

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘প্রতারণা’র অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ করল ভারত। পাকিস্তানকে ‘পুতুল সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারত সতর্ক করেছে, পাকিস্তানের মদতে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি ভুগতে হবে।

শুক্রবার রাতে ‘রাইট টু রিপ্লাই’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে জবাব দেয় ভারত। এর আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োচিত হস্তক্ষেপ’-এর প্রশংসা করেন এবং ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলেন।

রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকারের বিষয়ে পাকিস্তানের বক্তব্য ‘ভণ্ডামিপূর্ণ’, কারণ যে শাসনব্যবস্থার রাজধানী নিজেদের মানুষের বিরুদ্ধে নিরাপত্তায় ঘেরা, তারা এমন নীতি নিয়ে কথা বলছে। তাঁর দাবি, পাকিস্তান ‘সেনাবাহিনীর, সেনাবাহিনী দ্বারা এবং সেনাবাহিনীর জন্য পরিচালিত’ একটি ব্যবস্থা। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা বদলালেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।

পাকিস্তানের ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রসঙ্গ তুলে গেহলট বলেন, ওই সংশোধনীর মাধ্যমে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও চিফ অব আর্মি স্টাফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আজীবন আইনি বিচারের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর একই মিথ্যা পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। পাকিস্তানের ‘সন্ত্রাসবাদ, প্রতারণা ও দ্বিচারিতা’ কোনওভাবেই দেশটির বা বিশ্বের উপকার করবে না।

শাহবাজ শরিফ তাঁর ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের’ প্রশংসা করে দাবি করেছিলেন, তাঁর ‘সময়োচিত হস্তক্ষেপ’ দক্ষিণ এশিয়ায় কয়েকশো কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে। প্রায় ২৩ মিনিটের ভাষণে তিনি কাশ্মীর সমস্যারও উল্লেখ করেন।

এর জবাবে ভারত জানায়, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তা সবসময়ই থাকবে। গেহলট বলেন, কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করতে হলে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের পরিস্থিতির দিকেও নজর দেওয়া উচিত। রাওয়ালাকোটের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের হত্যাকাণ্ড, হিংসা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পাকিস্তানের সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের নীতিরও সমালোচনা করে গেহলট বলেন, গত বছর ভারত দেখিয়ে দিয়েছে যে সন্ত্রাসীদের পালানোর বা লুকিয়ে থাকার কোনও জায়গা থাকবে না। পহেলগাঁও হামলার পর গত ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গেহলট স্পষ্ট করে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার ‘পরিণতি’ হবে। এর ফলে বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে তৈরি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

পাকিস্তানের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয় ভারত। গেহলট বলেন, যে দেশ নিজেই ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার অভিযোগের মুখে এবং যার ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি ব্লাসফেমি আইন, সেই দেশের কাছ থেকে ধর্মীয় সহিষ্ণতা নিয়ে বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর দাবি, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের কীভাবে দেখা হয়, তা বিশ্ব জানে।