সিন্ধু নদের জল নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের, ‘আমাদের জলে হাত দিলে সেই হাত কেটে দেব’
ইসলামাবাদ:
সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার আবহে কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেছেন, ভারত পাকিস্তানের প্রাপ্য জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমাদের জলের অংশে কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।"
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মুসাদিক মালিক বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর থেকেই পাকিস্তানের দিকে জলের প্রবাহ কমানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি বলেন,"প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী এমনভাবে আচরণ করছেন যেন একটি কলের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে। তিনি বলছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জলও যেতে দেবেন না।"মালিকের দাবি, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে জলের প্রবাহ বন্ধ হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন,"এটি শুধু জলের বিষয় নয়। এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, ৫০ শতাংশ কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গে জড়িত।"কঠোর বার্তা দিয়ে পাকিস্তানের মন্ত্রী বলেন,"আমরা নিজেদের অধিকার রক্ষা করব। আমরা শুধু ঘোষণা করিনি, প্রয়োজনে তা করে দেখাবও। আমাদের জলের ভাগে কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে দেব।"
মুসাদিক মালিক আরও বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি না থাকলেও আন্তঃসীমান্ত নদীর জল একতরফাভাবে বন্ধ করা যায় না। সেখানে সিন্ধু জল চুক্তির মতো একটি বৈধ আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ভারত কীভাবে জল আটকে রাখতে পারে, সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলে তোলা হবে।
তিনি বলেন,"উজানের দেশ কি ইচ্ছামতো ভাটির দেশের জল বন্ধ করে দিতে পারে? আমাদের তো একটি বৈধ চুক্তিও রয়েছে। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা হবে।"একই সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, সিন্ধু জল চুক্তি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তি বাতিল, স্থগিত বা সংশোধন করতে পারে না।
তিনি বলেন,"আইনগত দিক থেকে পাকিস্তানের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও সমর্থন পাচ্ছে। সিন্ধু জল চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল বা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।"তারার আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বারবার বলেছেন, "জল আমাদের জীবনরেখা, একইসঙ্গে এটি আমাদের 'রেড লাইন'।"
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মন্ত্রীদের এই মন্তব্য দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে 'ডন'-এ প্রকাশিত হয়েছে। তবে সাংবাদিক বৈঠকের ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।