কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় নেপালে আটকে ৫২ ভারতীয় তীর্থযাত্রী, দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি সুপ্রিয়া সুলের
নয়াদিল্লি
কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় অংশ নিতে গিয়ে নেপালের কাঠমান্ডুতে আটকে পড়েছেন ৫২ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী। তাঁদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলির হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে।
শনিবার সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ একটি পোস্ট করে সুপ্রিয়া সুলে জানান, কাঠমান্ডুতে আটকে থাকা এই ৫২ জন ভারতীয় নাগরিক জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর, নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস, চিনের বেজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাস এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা ২০২৬-এর প্রথম দলটি সিকিমের নাথু লা পাস হয়ে ভারত-চিন সীমান্ত অতিক্রম করে চিনে প্রবেশ করে। সিকিমের রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুর পর্যটনমন্ত্রী শেরিং থেনডুপ ভুটিয়া এবং সিকিম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (এসটিডিসি) আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ওই যাত্রার সূচনা করেন।
রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুর জানান, পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর গত বছর এই তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু হয়েছিল। এবারও প্রথম দলের যাত্রার সূচনা করতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির ফলেই এই যাত্রা ফের স্বাভাবিক হয়েছে এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সিকিমের পর্যটনমন্ত্রী টি টি ভুটিয়া জানান, গত বছরের মতো এ বছরও অন্তত ১০টি তীর্থযাত্রী দলের যাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম দলটি আগামী ৩০ জুন সীমান্তে ফিরে আসবে বলেও তিনি জানান। তাঁর মতে, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এই যাত্রা পুনরায় চালু হওয়ায় সিকিমের পর্যটন শিল্পও নতুন গতি পেয়েছে।
প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক দুটি পৃথক পথ, উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস এবং সিকিমের নাথু লা পাস, দিয়ে কৈলাস মানসসরোবর যাত্রার আয়োজন করে।
হিন্দুধর্মে ভগবান শিবের আবাসস্থল হিসেবে কৈলাস পর্বত ও মানসসরোবরের বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই তীর্থযাত্রা অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবছর বৈধ ভারতীয় পাসপোর্টধারী শত শত ভারতীয় ধর্মীয় উদ্দেশ্যে এই যাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।