আগরতলায় ধৃত ৮ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী, তদন্তে পুলিশ সহ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা

Story by  Nurul Haque | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 5 h ago
আগরতলায় ধৃত  ৮ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী, তদন্তে পুলিশ সহ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা
আগরতলায় ধৃত ৮ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী, তদন্তে পুলিশ সহ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা
 
নূরুল হক,আগরতলা,
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ত্রিপুরা সফরের তিন সপ্তাহ ব্যবধানে একসঙ্গে আটজন অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশে ধরা পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে আগরতলায়। আগরতলা এয়ারপোর্ট থানার পুলিশের হাতে পৃথক পৃথক অভিযানে ধরা পরল ৮ বাংলাদেশি যুবক। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অবৈধভাবে ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশকারী যুবকরা আগরতলা এমবিবি বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে বসে ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ ভারতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে বিমান পথে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দেওয়া। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এই চেষ্টা ব্যর্থ করল এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ ‌‌। 

এয়ারপোর্ট থানার ওসি ইন্সপেক্টর সুশান্ত দেবের পৃথক পৃথক অভিযানে দুই দফায় ধরা পড়েছেন অনুপ্রবেশকারী আট বাংলাদেশী। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তারা ইন্দো বাংলা সীমান্তের ঠিক কোন অংশ দিয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করেছিল এবং ত্রিপুরা প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদেরকে কারা সাহায্য করেছিল এইসব বিষয়ে তদন্ত করতে পুলিশ ধৃতদের আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করা নির্দেশ এবং বিএসএফের তৎপরতার মধ্যেও ঠিক কিভাবে তারা সীমান্ত অতিক্রম করল সেই বিষয়টি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণের জানা যায়  গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার আগরতলা বিমানবন্দর এলাকা থেকে চার বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও চারজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। দুই দফায় মোট আটজন বাংলাদেশিকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
 
ধৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন সহ কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং ত্রিপুরা হয়ে বিমানপথে দেশের অন্য রাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।এয়ারপোর্ট থানার ওসি সুশান্ত দেব জানান, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা কোন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে, কারা তাদের সহায়তা করেছে এবং এর পেছনে কোনো দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
 
পুলিশের ধারণা, এই অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত দালালচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা গেলে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে। পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম পরিচয় এখনো পর্যন্ত গোপন রেখেছেন। অন্যদিকে ত্রিপুরার বিমানবন্দর এলাকায় একসঙ্গে আট অবৈধ বাংলাদেশি ধরা পড়ার ঘটনায় দেশব্যাপী চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় নজর রয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার। প্রসঙ্গত গত ৪ জুন ত্রিপুরা সফল করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশের নিরাপত্তা বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দুজনের সকলের ত্রিপুরায় এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ত্রিপুরা সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং দেশে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা। আগরতলায় একাধিক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে সরকারের একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এবং বিএসএফকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সফরের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে একসঙ্গে আট অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী ধরা পড়ার সীমান্তে বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে দিয়েছে। এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই নজরে রেখেছে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।