পহেলগাম ও অপারেশন সিঁদুরের পর নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ, পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারতের

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 5 h ago
পহেলগাম ও অপারেশন সিঁদুরের পর নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ, পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারতের
পহেলগাম ও অপারেশন সিঁদুরের পর নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ, পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারতের
 
নয়াদিল্লি: 

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই বহুপাক্ষিক কূটনীতির মঞ্চে নতুন পদক্ষেপ নয়াদিল্লির। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর প্রথম ‘সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ ফোরাম’-এ যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান-সহ সংগঠনের ১০টি সদস্য দেশকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে এই সম্মেলন হওয়ার কথা। পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খান খিচিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি ভারতে আসবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। 

২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায়। তার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সংঘাতের পর এই প্রথম কোনও পাকিস্তানি মন্ত্রীকে ভারতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হল। খিচি আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে, ২০২৩ সালের মে মাসে গোয়ায় SCO-র বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে তৎকালীন পাক বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির যোগদানের পর এটিই হবে কোনও পাকিস্তানি মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর। 

ঐতিহাসিক পুরানা কিল্লায় তিন দিনের এই সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও বিদেশ মন্ত্রক যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্মেলনের উদ্বোধন করার কথা। SCO-র সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি পর্যবেক্ষক ও সহযোগী দেশগুলির প্রতিনিধিরাও অংশ নিতে পারেন। সব মিলিয়ে ২৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। 

এই ফোরামের মূল লক্ষ্য বিভিন্ন দেশের প্রাচীন সভ্যতার যোগসূত্র, অভিন্ন ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কূটনীতি, শিক্ষা এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। ২০২৫ সালে তিয়ানজিনে SCO-র শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে সংগঠনটি তা গ্রহণ করে। 

তবে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানোর অর্থ যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি। সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, SCO-র সব সদস্য দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বহুপাক্ষিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবস্থান এর দ্বারা বদলে যাচ্ছে, এমন কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। 

এখন নজর পাকিস্তানের সিদ্ধান্তে। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে পাক মন্ত্রী দিল্লিতে আসেন কি না, তা স্পষ্ট হবে আগামী দিনে। তবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বজায় থাকলেও SCO-র মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগাযোগের এই উদ্যোগ আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


শেহতীয়া খবৰ