মাঝআকাশে হামলার মুখেও ১৭০-র বেশি যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় পাইলট! UAE প্রেসিডেন্টের সম্মান পেলেন স্মিত মচ্ছর ও ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মীরা

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 6 h ago
মাঝআকাশে হামলার মুখেও ১৭০-র বেশি যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় পাইলট! UAE প্রেসিডেন্টের সম্মান পেলেন স্মিত মচ্ছর ও ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মীরা
মাঝআকাশে হামলার মুখেও ১৭০-র বেশি যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় পাইলট! UAE প্রেসিডেন্টের সম্মান পেলেন স্মিত মচ্ছর ও ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মীরা

দুবাই:

মাঝআকাশে সহ-পাইলটের হামলার মুখেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। তাঁর সেই বীরত্বের স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। UAE-র প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান স্মিত মচ্ছর এবং ফ্লাইদুবাইয়ের অন্য কর্মীদের ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অব জায়েদ II’ সম্মানে ভূষিত করেছেন।

মঙ্গলবার দুবাই মিডিয়া অফিসের বিবৃতিতে এই খবর জানানো হয়েছে। দুবাইয়ের যুবরাজ, উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম সম্মাননা তুলে দেন। বিপদের মুহূর্তে কর্মীদের দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতার প্রশংসাও করেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। বিমানটি মাঝআকাশে থাকাকালীন সহ-পাইলট আচমকাই ককপিটে রাখা জরুরি কাজে ব্যবহৃত একটি কুড়ুল দিয়ে স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা চালান। গুরুতর আহত হন ভারতীয় পাইলট। হামলার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

ইজরায়েলি আধিকারিকদের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত সহ-পাইলট ওমানের নাগরিক। তিনি স্মিত মচ্ছরকে ছুরিকাঘাতও করেন। হামলার জেরে বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছাড়েননি স্মিত মচ্ছর। নিজের শেষ শক্তিটুকু কাজে লাগিয়ে তিনি ককপিটের দরজার লক খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা মিলে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে উপস্থিত ফ্লাইদুবাইয়ের অন্য দুই পাইলটের সহায়তায় বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়।

অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, স্মিত মচ্ছরকে প্রথমে সৌদি আরবের তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবুধাবিতে স্থানান্তরিত করা হয়।

বিমানকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে মাঝআকাশে ককপিটে হামলার ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ১৭০-র বেশি যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁদের সম্মানিত করা হয়েছে।

সম্মাননা গ্রহণের পর বিমানকর্মীরা UAE-র প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এই সম্মান দায়িত্ববোধ, নিষ্ঠা ও কর্তব্যের প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন ও কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো বীরদের বিষয়ক প্রেসিডেন্সিয়াল কোর্টের ডেপুটি চেয়ারম্যান শেখ থিয়াব বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট ও দুবাই এয়ারপোর্টসের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন সইদ আল মাকতুম-সহ একাধিক বিশিষ্ট আধিকারিক।

উল্লেখ্য, ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অব জায়েদ II’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি উচ্চস্তরের অসামরিক সম্মান। অসাধারণ সাহসিকতা, উল্লেখযোগ্য অবদান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে UAE-র প্রেসিডেন্ট এই সম্মান প্রদান করেন।



শেহতীয়া খবৰ