দারিদ্র্য, চোট আর প্রতিকূলতাকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতির স্বপ্ন, কাশ্মীরের ‘রাবার বয়’ সায়ম হায়দার

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 7 h ago
কাশ্মীরের ‘রাবার বয়’ সায়ম হায়দার
কাশ্মীরের ‘রাবার বয়’ সায়ম হায়দার
 
অনিকা মাহেশ্বরী / নয়াদিল্লি

জম্মু-কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চল থেকে উঠে আসা সায়ম হায়দার আজ ‘রাবার বয় অফ কাশ্মীর’ নামে পরিচিত। দারিদ্র্য, আর্থিক অনটন এবং একাধিক চোটের বাধা পেরিয়ে নিজের অসাধারণ শারীরিক নমনীয়তার মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র পরিচিতি। ঘাড়কে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘোরানো, হাত-পা অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো কিংবা তারবিহীন টেনিস র‍্যাকেটের ফ্রেমের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণ শরীর বের করে আনার মতো অবিশ্বাস্য কসরত তাঁর প্রতিভার পরিচয় বহন করে।

তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে বছরের পর বছর কঠোর অনুশীলন, পরিবারের উদ্বেগ, প্রয়াত কাকার অটুট বিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার এক অপূর্ণ স্বপ্ন। প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেই এবার বিশ্বদরবারে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে চান কাশ্মীরের এই তরুণ শিল্পী।
 
সায়ম হায়দার
 
১৩ বছর বয়সে শুরু হয় যাত্রা
 
মাত্র ১৩ বছর বয়সে নাচ এবং শরীরের অস্বাভাবিক সঞ্চালনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় সায়মের। ২০১০ সালের আশপাশে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ভিডিও দেখে তিনি নানারকম শারীরিক মুভমেন্ট শেখার এবং সেগুলি অনুকরণ করার চেষ্টা করতেন। ধীরে ধীরে পপিং, অ্যানিমেশন ডান্স, যোগব্যায়াম এবং কনটরশনের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। কনটরশন এমন একটি শিল্পকলা, যেখানে শিল্পী নিজের শরীরকে অসাধারণভাবে বাঁকিয়ে এবং ভারসাম্য বজায় রেখে বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন।
 
সায়মের কাছে ছিল না কোনও বড় প্রশিক্ষণকেন্দ্র, এমনকী আধুনিক সরঞ্জামও ছিল না। ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওকেই শেখার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি বাড়িতেই অনুশীলন শুরু করেন। বছরের পর বছর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের শিল্পকৌশলকে আরও উন্নত করে তোলেন। এই সময়ে হাজিনের মার্শাল আর্টসের শিক্ষক আফাক সাদিও তাঁকে স্ট্রেচিং এবং শারীরিক নমনীয়তা বাড়ানোর বিভিন্ন কৌশল বুঝতে সাহায্য করেন।
 
নাচের ভিডিওতে মেলেনি পরিচিতি, ভাগ্য বদলে দিল কনটরশন
 
শুরুতে সায়ম সোশ্যাল মিডিয়ায় নাচের ভিডিও শেয়ার করতেন। কিন্তু তাতে প্রত্যাশিত পরিচিতি পাননি তিনি। এরপর কনটরশন এবং আর্ম কনটরশন সম্পর্কিত একটি ভিডিও দেখে এই শিল্পকলা শেখার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের অভিনব কসরতের ভিডিও শেয়ার করতে শুরু করার পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকে। একসময় তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।
 
এই সাফল্য তাঁকে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাস জোগায়। ধীরে ধীরে তাঁর অসাধারণ শারীরিক নমনীয়তা এবং অভিনব প্রদর্শন নিয়ে চর্চা শুরু হয়। তাঁর শরীরের নমনীয়তা দেখে অনেকে রাবারের সঙ্গে তুলনা করতে থাকেন। এভাবেই তাঁর নাম হয়ে ওঠে ‘রাবার বয় অফ কাশ্মীর’। সায়মের কাছে এই পরিচিতি বছরের পর বছর অনুশীলন এবং নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রতীক।
 
সায়ম হায়দার
 
টেনিস র‍্যাকেটের ফ্রেমের মধ্যে দিয়ে শরীর বের করে গড়েছেন রেকর্ড
 
সায়মের সবচেয়ে আলোচিত কসরতগুলির মধ্যে রয়েছে তারবিহীন টেনিস র‍্যাকেটের ফ্রেমের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণ শরীর বের করে আনা। তিনি জানান, এক আমেরিকান শিল্পীর ভিডিও দেখে এই কসরত শেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। ওই শিল্পীকে এক মিনিটে দু’বার এই কসরত করতে দেখে সায়ম আরও ভালোভাবে তা করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
 
নিয়মিত অনুশীলনের পর সায়মের দাবি, তিনি এক মিনিটে পাঁচবার টেনিস র‍্যাকেটের ফ্রেমের মধ্যে দিয়ে নিজের সম্পূর্ণ শরীর বের করে আনতে সক্ষম হন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁর এই কৃতিত্ব ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, ইন্ডিয়া বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এবং ইনফ্লুয়েন্সার বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সঙ্গে যুক্ত সম্মানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, চারটি আন্তর্জাতিক বুক রেকর্ড-সহ আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড রয়েছে তাঁর নামে।
 
তাঁর আর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল ঘাড়কে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘোরানোর কসরত। ‘আওয়াজ দ্য ভয়েস’-এর সঙ্গে কথোপকথনের সময়ও তিনি এই কসরত প্রদর্শন করেন। তবে এ ধরনের শারীরিক কসরতে গুরুতর চোট পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান এবং যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়া এই কসরত অনুকরণ করা বিপজ্জনক হতে পারে।
 
ফ্র্যাকচার, চোট এবং সীমিত সংস্থানের মধ্যে লড়াই
 
সায়মের যাত্রাপথ সবসময় মসৃণ ছিল না। আর্ম কনটরশনের অনুশীলন করার সময় তাঁর বাঁ হাত ভেঙে যায়। তিনি জানান, চোট পাওয়ার পর হাত নাড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। যে শরীরকে তিনি নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করতেন, সেই শরীরের চোটই তাঁকে কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দিয়েছিল। তবে চোট থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর আবারও নিজের শিল্পকলা নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।
 
টেনিস র‍্যাকেটের কসরত অনুশীলন করার সময়ও একাধিকবার চোট পেয়েছেন সায়ম। নিরাপদ প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে নিজের বাড়িকেই অনুশীলনের জায়গা হিসেবে বেছে নেন তিনি। বাড়িতে শিট ও আয়না লাগিয়ে উপলব্ধ সংস্থান কাজে লাগিয়ে নিজের কৌশল উন্নত করার চেষ্টা করেন।
 
আর্থিক অনটনও তাঁর সংগ্রামের অন্যতম বড় অংশ। সায়মের কথায়, একটা সময় তাঁর কাছে জুতো এবং পোশাক কেনার মতো টাকাও ছিল না। নিজের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ছোটখাটো কাজ করেছেন, কিন্তু অনুশীলন বন্ধ করেননি। পরবর্তীকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ভিডিও ভাইরাল হওয়া এবং দর্শকসংখ্যা বাড়ার ফলে উপার্জনের সুযোগ তৈরি হয়। এই আয় তাঁকে নিজের অনুশীলন এবং সরঞ্জামের পিছনে অর্থ ব্যয় করতে সাহায্য করে।
 
মায়ের উদ্বেগ, কাকার বিশ্বাস
 
সায়মের জীবনকাহিনির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের আবেগও। বাড়িতে কঠিন শারীরিক কসরত শুরু করার পর থেকেই তাঁর মা উদ্বিগ্ন থাকতেন। ছেলের গুরুতর চোট লাগতে পারে, এই আশঙ্কা তাঁকে তাড়া করে বেড়াত। শুরুর দিকে সায়মকে বাড়ির লোকের চোখ এড়িয়ে অনুশীলন করতে হত। কিন্তু তাঁর ভিডিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর ধীরে ধীরে পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হতে থাকে।
 
সায়ম হায়দার
 
তাঁর জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়টি জড়িয়ে রয়েছে তাঁর এক কাকার সঙ্গে। সায়ম জানান, অন্যরা যখন তাঁর শিল্পকলা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন, তখন তাঁর কাকাই তাঁকে উৎসাহ জোগাতেন। তিনি বলতেন, একদিন সায়ম নিজের পরিচিতি গড়ে তুলবেন এবং নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতেও সফল হবেন।
 
আজ তাঁর সেই কাকা আর এই পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তাঁর বলা কথাগুলি এখনও সায়মের অনুপ্রেরণার উৎস। নিজের সাফল্য এবং মানুষের কাছ থেকে পাওয়া পরিচিতি যখন তিনি দেখেন, তখন কাকার সেই বিশ্বাসের কথা মনে পড়ে যায়। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার পাশাপাশি তাঁর সাফল্য এখন সেই মানুষটির আশা ও বিশ্বাসকে স্মরণ করে রাখারও একটি মাধ্যম, যিনি কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
 
ইউটিউবে পাঁচ লক্ষেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রদর্শন
 
সায়ম জানান, তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘রাবার বয় অফ কাশ্মীর’-এর সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা পাঁচ লক্ষেরও বেশি। ইনস্টাগ্রামেও তাঁর হাজার হাজার অনুরাগী রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া তাঁর শিল্পকলাকে কাশ্মীরের বাইরে বৃহত্তর দর্শকমহলের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
 
তিনি চণ্ডীগড়, অমৃতসর, রাজস্থান, জম্মু ও কাশ্মীর-সহ বিভিন্ন জায়গায় নিজের শিল্পকলা প্রদর্শন করেছেন। তাঁর কথায়, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত অনুষ্ঠানেও প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া, জম্মুর একটি অ্যাকাডেমিতে প্রায় এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত শিশুদের নাচ এবং যোগব্যায়াম শেখানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
 
তাঁর প্রদর্শন কেবল শারীরিক কসরতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার এক থেকে দু’দিন আগে বাড়িতে অনুশীলন করে নিজের পরিবেশনার পরিকল্পনা তৈরি করেন তিনি। মঞ্চে কোন কসরতটি কোন ক্রমে প্রদর্শন করবেন, তা-ও আগে থেকে ঠিক করে নেন।
 
‘ইন্ডিয়াজ গট ট্যালেন্ট’ থেকে ‘আমেরিকাস গট ট্যালেন্ট’-এ পৌঁছনোর স্বপ্ন
 
বর্তমান পরিচিতির গণ্ডি পেরিয়ে ‘রাবার বয় অফ ইন্ডিয়া’ হয়ে ওঠাই সায়মের স্বপ্ন। তিনি জানান, ‘ইন্ডিয়াজ গট ট্যালেন্ট’-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময়েই তাঁর কাকার মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণে প্রতিযোগিতার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। ঘটনাটি তাঁর কাছে গভীর আবেগঘন আঘাত ছিল। তবে তিনি নিজের স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি।
 
এখন তাঁর নজর ‘আমেরিকাস গট ট্যালেন্ট’-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চের দিকে। নিজের শিল্পকলার মাধ্যমে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে চান তিনি। তবে পর্যাপ্ত স্পনসরশিপ এবং আর্থিক সহযোগিতার অভাব তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছনোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করা তাঁর পক্ষে সহজ নয়।
 
নিয়মিত অনুশীলন এবং তরুণদের জন্য বার্তা
 
নিজের ফিটনেস বজায় রাখতে নিয়মিত অনুশীলন করেন সায়ম। তিনি জানান, সকালে প্রায় এক ঘণ্টা কনটরশনের অনুশীলন, হাঁটাচলা এবং নাচ করেন। সন্ধ্যায় জিমে যাওয়াও তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকে স্যালাড, শাকসবজি, ডাল এবং ভাতের মতো খাবার।
 
তরুণদের নিজেদের প্রতিভা চিনতে, কঠোর পরিশ্রম করতে এবং নেশা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি, প্রশিক্ষিত কোচের সাহায্য নেওয়ার উপরেও জোর দেন। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়, ইন্টারনেট থেকে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হলেও কঠিন শারীরিক কসরতের জন্য সঠিক কৌশল, বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা এবং নিরাপদ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
 
সায়ম হায়দার
 
বর্তমানে অন্য তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিবর্তে নিজের শিল্পকলাকে আরও উন্নত করার দিকেই মনোযোগ দিতে চান সায়ম। ভবিষ্যতে উন্নত সরঞ্জাম, নিরাপদ প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। এর ফলে বড় মঞ্চে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ হবে।
 
রেকর্ডের চেয়েও বড় তাঁর সংগ্রাম
 
সায়ম হায়দারের কাহিনি কেবল অসাধারণ শারীরিক নমনীয়তা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা অর্জনের গল্প নয়। এটি এমন এক কিশোরের যাত্রার কাহিনি, যে ইন্টারনেটের ভিডিও দেখে শেখা শুরু করেছিল, নাচের মাধ্যমে পরিচিতি গড়ে তুলতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছিল, ফ্র্যাকচার ও চোটের মোকাবিলা করেছিল এবং আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছিল।
 
তাঁর মায়ের উদ্বেগ, কাকার বিশ্বাস এবং সীমিত সংস্থানের মধ্যেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা এই কাহিনিকে আবেগঘন করে তুলেছে। আজ তিনি ‘রাবার বয় অফ কাশ্মীর’ নামে পরিচিত হলেও তাঁর দৃষ্টি এখনও পরবর্তী লক্ষ্যের দিকে।
 
সায়মের স্বপ্ন, একদিন তিনি ‘রাবার বয় অফ ইন্ডিয়া’ হয়ে উঠবেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের শিল্পকলা প্রদর্শন করবেন। তাঁর যাত্রা এখনও অব্যাহত। তাঁর জীবনকাহিনি এই বার্তাই দেয় যে, প্রতিভাকে পরিচিতি দেওয়ার জন্য একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক দিশা, নিরাপদ প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা এবং উপযুক্ত সুযোগেরও। কাশ্মীরের এই তরুণ শিল্পী প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলেছেন। এবার তিনি চান, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে।


শেহতীয়া খবৰ