কলম্বিয়াঃ
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন ৫৭০ জনের বেশি।
সোমবার স্থানীয় সময় সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কম্পন রাজধানী বোগোতাসহ দেশের বহু শহরে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ক্যালি, পেরেইরা, মানিসালেস, কিবদোসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়া ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।
চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক রাজধানী কিবদোতেও মানুষ আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি ভবনে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন বা আফটারশক নিয়েও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
রাজধানী বোগোতাতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। বহু গাড়ি ও ভবনের অ্যালার্ম বেজে ওঠে। বাসিন্দারা আতঙ্কে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেডেলিনেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। বিভিন্ন ভবনের বাসিন্দারা ঘুমের পোশাক পরেই রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের অবকাঠামো পরীক্ষা করা হয় এবং কিছু পরিবহন পরিষেবায় সাময়িক প্রভাব পড়ে।
ভূমিকম্পের ব্যাপকতার কারণে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি পরিষেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প পরপর আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পই উত্তর ভেনেজুয়েলায়, কারাকাসের পশ্চিমে আঘাত করেছিল।