সীমান্তে চাঞ্চল্য: রাজগঞ্জে চা-চাষিকে অপহরণের অভিযোগ, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ঘটনার পর বাড়ল উদ্বেগ
জলপাইগুড়ি:
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে এক ক্ষুদ্র চা-চাষিকে অপহরণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, শনিবার বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের একটি বড় দল কুকুরজান এলাকায় ঢুকে ওই চা-চাষিকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কুকুরজান রাজগঞ্জ ব্লকের অন্তর্গত এবং এলাকাটি জলপাইগুড়ি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। সরকারি নথিতেও রাজগঞ্জের কুকুরজান ও চাউলহাটি এলাকার অস্তিত্ব এবং সেখানে চা-বাগানের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ঘটনার কয়েকদিন আগে চাউলহাটি সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কেটে এক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে। বিএসএফ তাঁকে আটক করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেয় বলে জানা গিয়েছে।
এরপরই সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘটনার জেরেই বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের একটি দল ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে কুকুরজান এলাকার এক ক্ষুদ্র চা-চাষিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
তবে অপহরণের ঘটনাটি এবং এর সঙ্গে আগের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। প্রশাসন বা নিরাপত্তা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই দুই ঘটনাকে একই সূত্রে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
কুকুরজান ও সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে অতীতেও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২২ সালে কুকুরজান এলাকার বারুয়াপাড়ায় বাংলাদেশ থেকে একটি দল ভারতে ঢুকে গবাদি পশু চুরির চেষ্টা করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। সেই ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিক জনতার হাতে নিহত হন এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অপরাধী চক্রের গতিবিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে চা-বাগান ও কৃষিজমি বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি এবং সীমান্ত সুরক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান ঘটনায় অপহৃত চা-চাষির সন্ধান, তিনি কী পরিস্থিতিতে অপহৃত হলেন এবং অপহরণকারীরা কোন পথ ব্যবহার করে সীমান্ত পার হয়েছে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
তদন্তের অগ্রগতির ওপরই এখন নির্ভর করছে এই সীমান্ত-অপহরণ রহস্যের পরবর্তী ছবি।