জেনেভা:
কূটনীতির মঞ্চে এবার ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য প্রকাশ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের দফতরে পাঁচটি ময়ূর উপহার দিল ভারত। উপহার হিসেবে দেওয়া ময়ূরগুলির মধ্যে রয়েছে চারটি নীল ময়ূর এবং একটি বিরল সাদা ময়ূর। জাতিসংঘের নীল-সাদা রঙের সঙ্গে এই ময়ূরগুলির উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে এক অভিনব প্রতীকী বার্তা।
জেনেভায় ভারতের রাষ্ট্রদূত অরিন্দম বাগচী আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি ময়ূর জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ের ডিরেক্টর-জেনারেল তাতিয়ানা ভালোভায়া-র হাতে তুলে দেন। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও সৌন্দর্যকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের জাতীয় পাখি ময়ূর। ভারতীয় সংস্কৃতি, শিল্প, ঐতিহ্য ও পুরাণে ময়ূরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই জাতীয় প্রতীককেই কূটনৈতিক বন্ধনের একটি অভিনব মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এই উদ্যোগে।
বিশেষ আকর্ষণ অবশ্যই বিরল সাদা ময়ূরটি। চারটি নীল ময়ূরের সঙ্গে সাদা ময়ূরের উপস্থিতি জাতিসংঘের পরিচিত নীল-সাদা রঙের সঙ্গে একটি প্রতীকী সামঞ্জস্য তৈরি করেছে। ফলে অনুষ্ঠানটি শুধু একটি উপহার বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ভারত ও জাতিসংঘের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি নান্দনিক বার্তা বহন করেছে।
ভারতের কূটনীতিতে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রতীক ব্যবহারের প্রবণতা নতুন নয়। তবে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতীয় পাখি ময়ূরকে সামনে রেখে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে। কূটনীতির কঠিন আলোচনার বাইরে সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরির এই উদ্যোগই পরিচিতি পাচ্ছে ভারতের ‘Peacock Diplomacy’ হিসেবে।
প্রতীকী এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত যেন আরও একবার বার্তা দিল—কূটনীতি শুধু বৈঠক, চুক্তি কিংবা আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রকৃতিও হয়ে উঠতে পারে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শক্তিশালী ভাষা।