আমেরিকা ঃ
দীর্ঘদিনের হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান জন টার্নাসকে নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অ্যাপল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নতুন যুগে কোম্পানিকে নেতৃত্ব দিতে টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে অভিজ্ঞ এই অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাকেই বেছে নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি।
২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেওয়া জন টার্নাস দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ম্যাক কম্পিউটারকে আবার বাজারে শক্ত অবস্থানে ফেরানো এবং আইপ্যাড ও এয়ারপডসের মতো জনপ্রিয় পণ্যের নকশা ও উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যদিও তিনি জনসমক্ষে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত, অভ্যন্তরীণভাবে তাকে অ্যাপলের মূল পণ্য উন্নয়নের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখা হয়।
এই নেতৃত্ব পরিবর্তন এমন এক সময় এসেছে যখন প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটছে। বহু বছর বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির তালিকায় শীর্ষে থাকা অ্যাপল বর্তমানে সেই অবস্থান হারিয়েছে এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার কাছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে অ্যাপলের গতি তুলনামূলক ধীর, যা ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় চাপ তৈরি করছে।
বিশেষ করে আইফোনে এআই প্রযুক্তি সংযোজন টার্নাসের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে সফল কনজিউমার পণ্য আইফোনকে আরও বুদ্ধিমান ও এআই নির্ভর করা এখন কোম্পানির কৌশলগত অগ্রাধিকার।
এর অংশ হিসেবে অ্যাপল সম্প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী গুগলের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে গুগলের জেমিনি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিরি ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১১ সালে সিরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণা পৌঁছে দিলেও অ্যাপল এখনও পর্যন্ত এআই-কেন্দ্রিক বড় কোনো হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার সফল পণ্য বাজারে আনতে পারেনি। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতোমধ্যে শত শত মিলিয়ন ব্যবহারকারী অর্জন করেছে।
নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসকে এখন শুধু সফটওয়্যার নয়, হার্ডওয়্যার প্রতিযোগিতাতেও শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে হবে। মেটার অগমেন্টেড রিয়েলিটি গ্লাসেস ইতিমধ্যে বাজারে আলোড়ন তুলেছে, যা অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেটের তুলনায় কম দামে হলেও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। একইভাবে এনভিডিয়াও নতুন পার্সোনাল কম্পিউটার ও এআই চিপ উন্নয়নে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টার্নাসের নেতৃত্বে অ্যাপল ভবিষ্যতে ভাঁজযোগ্য ফোন, স্মার্ট গ্লাস, ভিআর ডিভাইস এবং এআই ভিত্তিক নতুন হার্ডওয়্যার পণ্যে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।