পার্বত্য ত্রিপুরায় সফল সূর্যমুখী চাষ, নেট দুনিয়ায় ভাইরাল কৃষকের সাফল্য
Story by Nurul Haque | Posted by Aparna Das • 8 h ago
পার্বত্য ত্রিপুরায় সফল সূর্যমুখী চাষ, নেট দুনিয়ায় ভাইরাল কৃষকের সাফল্য
নূরুল হক / আগরতলা
উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার সহ দেশের নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যের পর এবার সূর্যমুখী ফুল চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরায়। পার্বত্য ত্রিপুরার মাটিতে সূর্যমুখী চাষ করে সাফল্য পেলেন সিপাহীজলা জেলার চড়িলামের এক কৃষক।
উদয়পুর থেকে আগরতলার পথে ৮ নম্বরে জাতীয় সড়কের পাশে এক কানি জমির উপর সারি সারি সূর্যমুখী ফুলের বাগান খুব সহজেই দর্শনার্থীদের মন কাড়ছে। প্রতিদিন ভিড় জমছে ত্রিপুরার প্রথম এই সূর্যমুখী ফুলের বাগানে। দর্শনার্থীদের সংখ্যা এতটাই বেশি রয়েছে যে বাগান মালিক ফুলের বাগিচা ঘোরাফেরা এবং ছবি তোলার জন্য দর্শনার্থীদের কাছ থেকে দশ টাকা করে ফি ধার্য করেছেন।
তবে এই টাকা নেওয়াতে দর্শনার্থীদের কোন সমস্যা নেই। তারা খুশি মনে হয় কৃষকের এই ফুল চাষকে উৎসাহ জানিয়ে ১০ টাকা দিয়ে দিচ্ছেন এবং প্রাণ ভরে ফুলের সাথে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরছেন।
প্রসঙ্গত এই সূর্যমুখী বাগানের মালিক চড়িলামের কৃষক সঞ্জিত দাস এবং রঞ্জিত দাস। তাদের বিবরণ তাদের এই জমিটি অনেকদিন যাবতই অনাবাদি ছিল। এই জমিতে কয়েকবার কৃষি করলেও কৃষিজ ফসল খুব একটা ভালো হয়নি।
সূর্যমুখী ফুলের বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়
পরবর্তীকালে তারা ত্রিপুরার লেম্বুছড়া স্থিত কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরীক্ষামূলক ভাবে এই চাষ এখন সার্থকতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এককানি জমিতে সারি সারি ফুলের গাছে পাঁচ হাজারের বেশি পরিপক্ক সূর্যমুখী ফুল ত্রিপুরার অন্যতম আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কৃষক সঞ্জিত দাস বলেন প্রথম থেকেই ফুলের বিক্রির প্রস্তাব আসছে। ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে ফুল কিনে নিতে ছোট থাকে পরিপক্ক ফুলের দাম ৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত দিতে রাজি আছেন। এই হিসেবে এখন বাগানে যে ফুল আছে তাতে সহসাই তারা ৭-৮ লাখ টাকা রোজগার করতে পারবেন। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেওয়াতে তাদের প্রতিদিন অনেক রোজগার হচ্ছে।
সিপাহীজলা জেলার সূর্যমুখী ফুলের বাগান
তাদের এই বাগান করতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই ফুলের চাষ তাদের বাণিজ্যিক ভিত গড়ে তুলেছে। সঞ্জিত দাস এবং রঞ্জিত দাস এর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রমাণ করে যে সঠিক প্রযুক্তি ও পরিশ্রম থাকলে নতুন ধরনের চাষেও সফল হওয়া সম্ভব। ত্রিপুরায় সূর্যমুখী ফুলের সফল চাষ কৃষি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে দিয়েছে।