দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার শ্রীভূমি (পূর্বতন করিমগঞ্জ) জেলার বদরপুর থেকে একজন ব্যাক্তি ক্যান্সার গবেষণায় বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে বেড়াচ্ছেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের শেখাচ্ছেন জেনোমিকস। তিনি হচ্ছেন ড° ফজলুর রহমান তালুকদার। তিনি প্রমাণ করেছেন যে মেধা এবং পড়াশুনার প্রতি গভীর আগ্রহ থাকলে মানুষকে কখনোই ধরে রাখা যায় না, একদিন সে সত্যিই পৌঁছে যায় সাফল্যের শিখরে।
বিশ্বজুড়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা মানুষের বিরল তালিকায় আজ গর্বের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ড° ফজলুর রহমান তালুকদারের নাম। ক্যান্সার গবেষণার মতো জটিল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদান তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক স্বীকৃত ও সম্মানিত বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি অগাধ আগ্রহই ডাঃ রহমানকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে বলেই মন্তব্য করেন তাঁর পিতা মাহমুদুর রহমান। রহমান হিন্দুস্তান পেপার করপোরেশনের কাছাড় পেপার মিল ও জাগিরোড পেপার মিলে জিএম হিসেবে কাজ করে অবসর জীবন-যাপন করছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনার প্রতি গভীর মনোযোগী ছিলেন এবং সবসময় নতুন কিছু শেখার আগ্রহ তাঁর মধ্যে লক্ষ্য করা যেত। পরিবারের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে এগিয়ে গেছেন, রহমান জানান।
শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক সাফল্যের পর ড° ফজলুর রহমান অসম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপরই গবেষণাজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। পিএইচডি পর্যায় থেকেই তিনি ক্যান্সার রোগের কারণ, বিস্তার, ঝুঁকি ও প্রতিরোধ নিয়ে গভীরভাবে কাজ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে এই ক্ষেত্রেই নিজের বিশেষ দক্ষতা গড়ে তোলেন।
পরবর্তীতে তাঁর মেধা ও গবেষণার দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীন আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থায় কাজ করার সুযোগ লাভ করেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণায় অংশগ্রহণ করে তিনি ক্যান্সার সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হন। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনে তাঁর দক্ষতা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
ড° রহমানের গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবেশগত প্রভাব, জীবনযাত্রার ধরন এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক নির্ণয় করা। তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে কিভাবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস, দূষণ এবং অন্যান্য বাহ্যিক উপাদান ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এই বিষয়ে তাঁর গবেষণা ভবিষ্যতে ক্যান্সার প্রতিরোধমূলক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ড° ফজলুর রহমান তালুকদার
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে নিজের একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর গবেষণার ফলাফল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং তা বিশ্বজুড়ে গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ড° ফজলুর রহমানের এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি সমগ্র অসম তথা বরাক উপত্যকার মানুষের জন্য এক গর্বের বিষয়।
রহমান বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ওর মধ্যে গবেষণার প্রবল আগ্রহ ছিল। সবসময় বই নিয়ে পড়ে থাকত এবং নতুন কিছু জানার চেষ্টা করত। একাদশ শ্রেণীতে পড়ার সময়ই বারবার গবেষণার কথা বলতো, বিজ্ঞানী হওয়ার কথা বলতো এবং তখন খুব আশ্চর্য ঠেকলেও আজ ও যে জায়গায় পৌঁছেছে, তা আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”