তেহরান (ইরান)
ইরান জানিয়েছে যে তারা বাহরাইনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস শনিবার জানায়, “বাহরাইনে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।” দূতাবাসটি হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে, যেখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কথিত “জায়নিস্ট শাসনের নির্মম আগ্রাসন”-এর নিন্দা জানিয়ে বলেছিল যে, এই হামলা ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই চালানো হয়েছে।
ভারতে ইরানি দূতাবাস আরও জানিয়েছে,“পরম করুণাময়ের নামে। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের শত্রুভাবাপন্ন ও অপরাধমূলক আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায়, অধিকৃত ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে।”
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও (UAE) ইরানি সামরিক বাহিনী থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলে খালিজ টাইমস জানিয়েছে।
এক নাটকীয় আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এমন একটি সামরিক অভিযানে নেমেছে, যা তারা ইরানের সৃষ্টি করা “অস্তিত্বগত হুমকি” মোকাবিলার জন্য বলে দাবি করছে।
এই পুনরাবৃত্ত হামলা কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনাপূর্ণ পারমাণবিক আলোচনা এবং সামরিক অস্থিরতার পর ঘটল। হামলার পূর্ণ পরিসর ও প্রভাব এখনো মূল্যায়নাধীন থাকলেও, এটি ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্পের নেতৃত্বকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেন।
তিনি ইসরায়েলিদের উদ্দেশে বলেন, “আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, ঠিক এক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সন্ত্রাসী শাসন থেকে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি দূর করতে এক যৌথ অভিযানে নেমেছে।”
নেতানিয়াহু এরপর ইরানের জনগণের প্রতি আবেগঘন আবেদন জানান। তিনি বলেন, “ইরানের জনগণের সব শ্রেণি-পার্সিক, কুর্দি, আজেরি, বালোচ এবং আহওয়াজি- তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া স্বৈরাচার থেকে মুক্ত হয়ে শান্তিপ্রিয় ও স্বাধীন একটি ইরান গড়তে এগিয়ে আসার সময় এসেছে।”
পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল–এ এক টেলিভিশন বার্তায় নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এর আগেই ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর ঘোষণা দেয়, যার উদ্দেশ্য ইসরায়েলের প্রতি যে হুমকি রয়েছে তা নির্মূল করা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যে, তারা যদি তা না করে, তবে “নিশ্চিত মৃত্যু”-র মুখোমুখি হবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্য পূর্ণমাত্রার সংঘাতে নিমজ্জিত হয়েছে।