নয়াদিল্লি
ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী একটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
এই হামলার ফলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর চাবাহারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। খবর অনুযায়ী, ভারতের সহায়তায় নির্মিত চাবাহার বন্দরের মেরিটাইম ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারেও বোমা হামলা হয়েছে। চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিনিয়োগ। এই বন্দরের মাধ্যমে ভারত ইরানের পথ ব্যবহার করে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। পাকিস্তানের ওপর নির্ভর না করে মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর বিকল্প পথ হিসেবে চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব ভারতের কাছে অত্যন্ত বেশি।
হামলার পরই ভারত সরকার বন্দরের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু করেছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনের পরই বন্দরের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে। এই ঘটনায় নয়াদিল্লীর উদ্বেগ বেড়েছে, কারণ চাবাহার প্রকল্প ভারতের আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
অন্যদিকে, মার্কিন হামলার পর ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, চাবাহার এবং তার পাশের কোনারক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার পর চাবাহারে বিদ্যুৎ পরিষেবাও সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
শুধু চাবাহারই নয়, ইরানের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর বন্দর আব্বাসেও ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সরকারি টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে আটটি বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়াও গোলেস্তান প্রদেশের একটি রেলসেতুতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই সামরিক সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে চাবাহার বন্দরের ক্ষয়ক্ষতির খবরে ভারতের কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।